জলপাইগুড়ি, ৮ জুন:
তোলাবাজি, হুমকি দেওয়া, জমি দখলসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া তৃণমূল নেতাকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় ক্ষুব্ধ জনতার বিক্ষোভের মুখে পড়তে হল পুলিশকে। ময়নাগুড়ি থানার সামনে ধৃত নেতাকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় ‘চোর চোর’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। শুধু স্লোগানই নয়, উত্তেজিত জনতার একাংশের পক্ষ থেকে ডিমও ছোড়া হয় বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত বাবলু রায় ময়নাগুড়ি ব্লক-১ তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি এবং খাগড়াবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ভয় দেখানো, জমি দখল এবং প্রভাব খাটানোর মতো একাধিক অভিযোগ জমা পড়ছিল থানায়। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এতদিন তিনি আইনের হাত এড়িয়ে গিয়েছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই কার্যত আত্মগোপন করে ছিলেন বাবলু রায়। এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছিল। অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের উপর চাপ সৃষ্টি করে সুবিধা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ সামনে আসার পর পুলিশ তদন্তে নামে এবং গতকাল রাতে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার সকালে ময়নাগুড়ি থানা থেকে তাঁকে জলপাইগুড়ি আদালতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলাকালীন থানার সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ধৃত নেতাকে প্রিজন ভ্যানে তোলা মাত্রই জনতার একাংশ ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করে। পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করে। অভিযোগ, সেই সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারী প্রিজন ভ্যান লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ে।
যদিও পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিরাপত্তার সঙ্গে বাবলু রায়কে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিন তাঁকে জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাঁর হেফাজতের আবেদন জানাতে পারে বলে সূত্রের খবর।
এই ঘটনায় জেলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতেই এই গ্রেপ্তারি হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তবে স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, অভিযোগের তদন্ত নিরপেক্ষভাবে হওয়া উচিত এবং আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এখন তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশ কী হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

