জলপাইগুড়ি, ৮ জুন:
সীমান্ত এলাকায় তৎপরতা চালিয়ে দুই শিশুসহ মোট ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করল বিএসএফ। জলপাইগুড়ির নগর বেরুবাড়ি এলাকার জয়পুর সীমান্ত থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পরে তাঁদের জলপাইগুড়ি কোতোয়ালী থানায় নিয়ে আসা হলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসার পর জওয়ানরা অভিযান চালান। সেই সময় দুই শিশুসহ মোট ১০ জনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাঁরা সকলেই বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ।
তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তাঁরা পুনরায় বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই উদ্দেশ্যেই সীমান্তের দিকে রওনা দিয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং তাঁদের ভারতে প্রবেশ ও বসবাসের সময়কাল সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করে জানা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশের যশোর জেলার, চারজন চট্টগ্রাম জেলার, একজন খুলনা জেলার, একজন সাতক্ষীরা জেলার এবং একজন কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা। তাঁদের সঙ্গে থাকা দুই শিশুও বাংলাদেশি নাগরিক বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে প্রশাসন।
আটকের পর সকলকে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালী থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়। পরে তাঁদের জলপাইগুড়ির হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, আপাতত হোল্ডিং সেন্টারেই তাঁদের রাখা হবে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফ, পুলিশ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন দফতর সমন্বয় রেখে কাজ করছে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অবৈধভাবে বসবাসের ঘটনা রুখতে নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বর্তমানে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ এবং আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।

