কোচবিহার, ১০ জানুয়ারী :
কয়েক দিন ধরেই চলছিল নানা জল্পনা। উঠছিল দুর্নীতির অভিযোগও। শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কোচবিহারের পৌরসভার রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। রবীন্দ্রনাথ ঘোষের দাবি, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।শনিবার সকালে সদর মহকুমা শাসকের বাড়িতে গিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন রবীন্দ্রনাথ। পরে তিনি নিজেই জানান, অভিষেকের নির্দেশ মেনেই তিনি চেয়ারম্যান পদ ছেড়েছেন। তাঁর পদত্যাগে কোচবিহারের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।উল্লেখযোগ্য ভাবে, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ তৃণমূল কংগ্রেসের অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখ। এক সময় তিনি জেলার দলীয় সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালের পুরসভা নির্বাচনে জয়ের পর তাঁকেই কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান করা হয়। তাঁর মেয়াদে শহরের একাধিক পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, রাস্তা সংস্কার, নিকাশি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়েছিল, যা শহরবাসীর নজর কাড়ে।দলের অন্দরের একাংশের ব্যাখ্যা, সংগঠনে রদবদল এনে নতুন প্রজন্মের নেতাদের এগিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। পাশাপাশি পুরসভার পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় ও প্রশাসনিক কাজকর্মে গতি আনার বিষয়ে সাম্প্রতিক যে আলোচনা চলছিল, তার প্রভাবও এই সিদ্ধান্তের পিছনে থাকতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।চেয়ারম্যান পদ থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানোর পর এখন সবচেয়ে বড় কৌতূহল, কে বসছেন কোচবিহার পুরসভার নতুন চেয়ারম্যানের আসনে। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দিলীপ সাহার নাম জোরালো ভাবে উঠে আসছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত দলীয় স্তরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
সব মিলিয়ে, রবীন্দ্রনাথ ঘোষের পদত্যাগ কোচবিহার জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

