শিলিগুড়ি, ১২ জুন:
পঞ্চায়েতের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনে অনিয়মের কারণে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে প্রশাসনকে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে মন্তব্য করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার শিলিগুড়ির মৈনাক টুরিস্ট লজে উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বহু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বিভিন্ন কারণে এলাকায় অনুপস্থিত রয়েছেন কিংবা নিয়মিতভাবে তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পঞ্চায়েত স্তরের পরিষেবার উপর। সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া, উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং প্রশাসনিক পরিষেবা পরিচালনার ক্ষেত্রে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
দিলীপ ঘোষ বলেন, “নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব হল মানুষের পাশে থাকা এবং তাঁদের সমস্যা সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, তাঁরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন না। এর ফলে প্রশাসনের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে এবং পরিষেবা প্রদানে বিঘ্ন ঘটছে।”
তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন যে, ভবিষ্যতে যদি নির্বাচিত সদস্যরা তাঁদের সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হন, তাহলে রাজ্য সরকার বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পথে হাঁটতে পারে। যদিও সেই বিকল্প ব্যবস্থা কী হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি মন্ত্রী। তবে তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিনের বৈঠকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার পঞ্চায়েত ব্যবস্থা, উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি, সরকারি পরিষেবা প্রদান এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়। জেলার আধিকারিকদের কাছ থেকে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির রিপোর্টও নেন মন্ত্রী।
পাশাপাশি পঞ্চায়েত ব্যবস্থার অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে কর্মচারীর ঘাটতির বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী জানান, গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদ—এই তিন স্তরেই প্রয়োজনের তুলনায় কর্মীর সংখ্যা কম রয়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসনিক কাজকর্মে বিলম্ব হচ্ছে এবং পরিষেবা প্রদান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এই সমস্যা সমাধানে রাজ্য সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করতে চলেছে বলেও জানান দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, পঞ্চায়েত দপ্তরের বিভিন্ন স্তরে শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে প্রায় ১১ হাজার কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ আরও দ্রুত ও কার্যকর পরিষেবা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে উত্তরবঙ্গের পঞ্চায়েত প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা, পরিষেবা প্রদানের সমস্যা এবং কর্মী নিয়োগের মতো বিষয়গুলি আগামী দিনে রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থার উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহলের একাংশ।

