আলিপুরদুয়ার, ১৩ জুন:
আলিপুরদুয়ার জেলার শামুকতলা থানার অন্তর্গত কামাখ্যাগুড়ি সংলগ্ন উত্তর পারোকাটা এলাকায় গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে বড়সড় অভিযান চালিয়ে একটি নকল মদের কারখানার সন্ধান পেল পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে শামুকতলা রোড ফাঁড়ির পুলিশ ওই এলাকায় হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল মদ এবং মদ তৈরির বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মদ ও অন্যান্য সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা।
অভিযান চলাকালীন পুলিশ দেখতে পায়, একটি ভাঙাচোরা ঘরের ভিতরে বিভিন্ন নামী-দামী ব্র্যান্ডের মদের বোতল সারি সারি করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। সেখানেই চলছিল নকল মদ তৈরির ও প্যাকেজিংয়ের কাজ। দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় এই অবৈধ ব্যবসা রমরমিয়ে চলছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এলাকার কিছু প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার মদতেই এই কারবার পরিচালিত হচ্ছিল।
পুলিশ প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তল্লাশি অভিযান চালায়। রাত প্রায় একটা নাগাদ বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদের বোতল, কাঁচামাল, রাসায়নিক দ্রব্য এবং মদ তৈরির সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়। অভিযানের পর ঘটনাস্থল থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতরা হলেন বাড়ির মালিক ভূষণ দেবনাথ এবং পাশের বাড়ির বাসিন্দা তপন দেবনাথ। তবে এই চক্রের মূল পান্ডা এখনও অধরা। ঘটনার পর থেকেই সে গা ঢাকা দিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
এদিকে গ্রেফতার হওয়া ভূষণ দেবনাথ নিজের নির্দোষিতা দাবি করে জানিয়েছেন, তিনি বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, কোচবিহারের বাসিন্দা তথা তাঁর এক নিকট আত্মীয় তাপস আর্য প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে ওই ঘর ব্যবহার করতেন। সেখানে কী ধরনের কাজ চলত, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেছেন। একইভাবে তপন দেবনাথও নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই নকল মদ চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, কোথায় কোথায় এই মদ সরবরাহ করা হত এবং এর পিছনে কোনো বড় চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মূল অভিযুক্ত তাপস আর্যের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় সন্দেহজনক কার্যকলাপ চললেও প্রশাসনের নজরে বিষয়টি আসেনি। পুলিশের এই অভিযানের পর নকল মদ চক্রের আরও বড় তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

