জলপাইগুড়ি, ১৩ জুন:
শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা দূর করা এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে জলপাইগুড়িতে একটি বৃহৎ ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় সড়কের আসাম মোড় থেকে পাহাড়পুরের বালাপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত এই প্রস্তাবিত ফ্লাইওভার প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছেন জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায়। শনিবার তিনি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে সম্ভাব্য রুট পরিদর্শন করেন এবং প্রকল্পের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন।
সাংসদ জানান, জলপাইগুড়ি শহরে ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই যানজট একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শহরের ব্যস্ত মোড় এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলিতে প্রতিদিনই সাধারণ মানুষকে যানজটের কারণে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। সেই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই এই উচ্চাভিলাষী ফ্লাইওভার প্রকল্পের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
জয়ন্ত রায় বলেন, প্রস্তাবিত ফ্লাইওভার নির্মাণের জন্য ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এনএইচএআই) ইতিমধ্যেই বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন বা ডিপিআর (Detailed Project Report) প্রস্তুত করেছে। বর্তমানে প্রকল্পের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে কাজ চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী দিনে জলপাইগুড়ি শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদী।
শনিবার সাংসদ এনএইচএআই-এর আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে আসাম মোড় থেকে পাহাড়পুরের বালাপাড়া পর্যন্ত সম্ভাব্য ফ্লাইওভারের রুট পরিদর্শন করেন। এ সময় রাস্তার বর্তমান অবস্থা, যানবাহনের চাপ, জমি সংক্রান্ত বিষয় এবং নির্মাণের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলি খতিয়ে দেখা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোন কোন জায়গায় বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়েও আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে।
সাংসদের দাবি, এই ফ্লাইওভার চালু হলে শুধু যানজটই কমবে না, শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতের সময়ও অনেক কমে যাবে। পাশাপাশি জরুরি পরিষেবা, পণ্য পরিবহণ এবং দৈনন্দিন যাতায়াত আরও দ্রুত ও নির্বিঘ্ন হবে। এর ফলে শহরের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়াও তিনি বলেন, যানজট কমে গেলে সড়ক দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও অনেকাংশে হ্রাস পাবে। বর্তমানে শহরের ব্যস্ত এলাকাগুলিতে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। ফ্লাইওভার নির্মাণ হলে সেই ঝুঁকি কমবে এবং সাধারণ মানুষ আরও নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও এই প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, জলপাইগুড়ি শহরের জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সেই তুলনায় বর্তমান সড়ক পরিকাঠামো পর্যাপ্ত নয়। ফলে একটি আধুনিক ফ্লাইওভার নির্মিত হলে শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে এবং দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে।
শহরের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই ফ্লাইওভার প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহল। এখন নজর রয়েছে প্রকল্পটির প্রশাসনিক অনুমোদন ও নির্মাণকাজ কবে শুরু হয়, সেদিকে। বাস্তবায়িত হলে এটি জলপাইগুড়ি শহরের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামোগত প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

