নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার, ১৩ জুন:
রবিবার সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বর্ষার জোরালো প্রভাব থাকবে, যার ফলে উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টি এবং দক্ষিণবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা শক্তিশালী জলীয় বাষ্প এবং নিম্নচাপ অক্ষরেখার কারণে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ—উভয় প্রান্তেই বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রাজ্যের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩২° থেকে ৩৬° সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫° থেকে ২৮° সেলসিয়াসের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করবে।
🟥দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া:-
******************************************
রবিবার দক্ষিণবঙ্গের আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে এবং বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু (বর্ষা) দক্ষিণবঙ্গে প্রবেশ করার কারণে আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।
♦️দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়া হলো:
🌡️ তাপমাত্রা এবং গরমের পরিস্থিতিসর্বোচ্চ তাপমাত্রা: প্রায় ৩৩° সেলসিয়াস থেকে ৩৬° সেলসিয়াসের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করবে।
❄️সর্বনিম্ন তাপমাত্রা: রাতের দিকে তাপমাত্রা কমে ২৭° বা ২৮° সেলসিয়াসের আশেপাশে নামতে পারে।
🥵অস্বস্তি সূচক: বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য বা আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি (প্রায় ৬৬% থেকে ৮৫%) থাকার কারণে ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তিকর পরিবেশ বজায় থাকবে। বৃষ্টির পর সাময়িক স্বস্তি মিললেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি পুরোপুরি কাটবে না।
🌧️ বৃষ্টিপাত ও ঝড়ের পূর্বাভাসবিক্ষিপ্ত বৃষ্টি: কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ প্রাক-বর্ষার বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে একটানা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম, মূলত স্থানীয়ভাবে মেঘ জমে কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টি নামবে।
⛈️ঝোড়ো হাওয়া: বৃষ্টি বা বজ্রপাতের সময় কিছু জায়গায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
🟥উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া:-
*****************************************
উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের তীব্র সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় ইতিমধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু (বর্ষা) সম্পূর্ণভাবে প্রবেশ করায় এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
🌡️ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতাসর্বোচ্চ তাপমাত্রা: সমতল এলাকায় (যেমন শিলিগুড়ি বা জলপাইগুড়িতে) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩°C থেকে ৩৬°C পর্যন্ত থাকতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় (যেমন দার্জিলিং) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২২°C থেকে ২৪°C-এর মধ্যে থাকবে।
❄️সর্বনিম্ন তাপমাত্রা: সমতলে ২৬°C থেকে ২৮°C এবং পাহাড়ে ১৫°C থেকে ১৮°C।
💧বাতাসের আর্দ্রতা: বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৭৯% থেকে ৯৩% পর্যন্ত থাকবে, যার ফলে বৃষ্টি না হওয়া সময়ে বেশ ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি অনুভূত হবে।
🔴সতর্কতা: ভারী বৃষ্টির কারণে উত্তরবঙ্গের নিচু এলাকাগুলিতে জল জমতে পারে এবং নদীগুলির জলস্তর বৃদ্ধি পেতে পারে। বজ্রপাতের সময় সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD)।
🟥কোচবিহারের আবহাওয়া:-
********************************************
রবিবার কোচবিহারে ভারী বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে [১.৩.৬]। বর্ষার আগমনের কারণে দিনভর আর্দ্রতাজনিত চরম অস্বস্তি বজায় থাকবে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫° সেলসিয়াস এর কাছাকাছি থাকবে।
♦️আবহাওয়ার বিস্তারিত বিবরণ অস্বস্তির মাত্রা: বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ প্রায় ৭৯% থাকার কারণে দিনভর ঘর্মাক্ত ও অত্যন্ত অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হবে। আসল অনুভূতি (RealFeel) তাপমাত্রা প্রায় ৩৯° থেকে ৪০° সেলসিয়াসের মতো অনুভূত হতে পারে।
🌧️বৃষ্টির সতর্কতা: বিকেলের পর থেকে রাতের দিকে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। বজ্রঝড়ের আশঙ্কার কারণে এই সময়ে ঘরের বাইরে বেরোলে সাথে ছাতা বা রেইনকোট রাখা জরুরি।
🌬️বায়ুর গতি: দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার গতিতে হালকা বাতাস বইতে পারে।
🌄সূর্যোদয়: ভোর ৪:৩৯
🌅সূর্যাস্ত: সন্ধ্যা ৬:২৬দিনের
🌕দৈর্ঘ্য: ১৩ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট

