কোচবিহার, ৯ জুন:
সাধারণ মানুষের হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেল কোচবিহার কোতোয়ালি থানা। আধুনিক প্রযুক্তি এবং ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া মোট ৫৫টি মোবাইল ফোন তাদের প্রকৃত মালিকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দিল পুলিশ। এই উদ্যোগে স্বস্তি ও খুশির আবহ তৈরি হয়েছে ফোন হারানো বহু মানুষের মধ্যে।
মঙ্গলবার কোচবিহার কোতোয়ালি থানার উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলি মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন আগে হারিয়ে যাওয়া কিংবা চুরি হয়ে যাওয়া মোবাইল ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকেই। অনেকে মনে করেছিলেন, ফোনগুলি আর কখনও ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু পুলিশের তৎপরতায় সেই আশাই বাস্তবে পরিণত হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন সময়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল সংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়েছিল। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান, মোবাইল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা এবং ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে ফোনগুলির অবস্থান চিহ্নিত করা হয়। এরপর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই এবং মালিকানার প্রমাণ পরীক্ষা করে একে একে মোবাইলগুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জসপ্রীত সিং। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারে জেলা পুলিশ নিয়মিতভাবে কাজ করছে। প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দ্রুত অভিযোগ নথিভুক্ত করার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই হারিয়ে যাওয়া ফোন উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ভবিষ্যতে কারও মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হয়ে গেলে দ্রুত অভিযোগ জানানো অত্যন্ত জরুরি। সেই ক্ষেত্রে জাতীয় সাইবার হেল্পলাইন নম্বর ১৯৩০-এ ফোন করে অভিযোগ জানানো যেতে পারে। পাশাপাশি নিকটবর্তী থানায় বা সংশ্লিষ্ট অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করতে পারবে।
মোবাইল ফিরে পাওয়া উপভোক্তারা কোচবিহার কোতোয়ালি থানার এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁদের বক্তব্য, মোবাইল ফোন এখন শুধুমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম নয়, ব্যক্তিগত তথ্য, নথিপত্র, ব্যাংকিং সংক্রান্ত তথ্যসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভাণ্ডার। তাই হারিয়ে যাওয়া ফোন ফিরে পাওয়া তাঁদের কাছে অত্যন্ত স্বস্তির বিষয়।
জেলা পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জনবান্ধব পুলিশি পরিষেবার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ বলেই মনে করছেন অনেকে। ভবিষ্যতেও হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী উদ্ধারে একইভাবে সক্রিয় থাকবে পুলিশ প্রশাসন বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

