কোচবিহার, ১৬ জুন:
ফের কাটমানি ফেরতের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠল কোচবিহারের একাংশ। মঙ্গলবার কোচবিহার-২ নম্বর ব্লকের মরা নদীর কুটি এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য দীপেন বর্মনের বাড়ির সামনে বিক্ষোভে সামিল হন এলাকার বহু বাসিন্দা। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কাটমানি আদায় করা হয়েছে। সেই টাকা ফেরতের দাবিতেই এদিন সরব হন গ্রামবাসীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীপেন বর্মন শুধু কাটমানি নেওয়ার সঙ্গেই জড়িত ছিলেন না, পঞ্চায়েত সদস্য হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন এলাকায় দাপটের সঙ্গে চলাফেরা করতেন এবং সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হেনস্তা ও চাপের মুখে রাখতেন। ফলে অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারেননি। তবে রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
গ্রামবাসীদের দাবি, রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই দীপেন বর্মন এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বাড়িছাড়া রয়েছেন। সেই সুযোগে এদিন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা তাঁর বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। কাটমানি হিসেবে নেওয়া অর্থ অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার দাবি তোলেন তাঁরা। পাশাপাশি অতীতে যাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, তাঁদের একটি তালিকা তৈরি করে টাকা ফেরতেরও দাবি জানানো হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আবাস যোজনা, রাস্তা নির্মাণ, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। অনেকেই বাধ্য হয়ে টাকা দিলেও পরবর্তীতে প্রতিশ্রুত সুবিধা পাননি বলে অভিযোগ।
এদিনের বিক্ষোভের জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পঞ্চায়েত সদস্যের পরিবারের সদস্যরা গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। অভিযোগ, চাপের মুখে পড়ে দীপেন বর্মনের দাদা বিক্ষোভকারীদের আশ্বাস দেন যে কাটমানি হিসেবে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হবে। তিনি গ্রামবাসীদের কাছে সাত দিনের সময়ও চান বলে জানা গিয়েছে।
যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে দীপেন বর্মনের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। গ্রামবাসীদের একাংশের বক্তব্য, শুধু এই একটি ঘটনা নয়, অতীতে যাঁরা কাটমানি নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধেও একইভাবে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
ঘটনাকে ঘিরে মরা নদীর কুটি এলাকায় উত্তেজনা ছড়ালেও পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গোটা বিষয়ের উপর প্রশাসন এবং স্থানীয় মহলের নজর রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

