আলিপুরদুয়ার, ১৭ জুন:
বুধবার সকালে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন এলাকায় একটি পূর্ণবয়স্ক দাতাল হাতির মৃতদেহ উদ্ধার হওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জলদাপাড়া জঙ্গল লাগোয়া শালকুমার-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্যাঙডাকি বিটের অন্তর্গত ভান্ডানী গ্রামের একটি চাষের জমিতে হাতিটির মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। সকালবেলায় স্থানীয় কৃষক ও গ্রামবাসীরা জমিতে কাজ করতে গিয়ে প্রথমে হাতিটির নিথর দেহ দেখতে পান। এরপরই এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন কৌতূহলী মানুষজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত হাতিটি একটি পূর্ণবয়স্ক দাতাল হাতি। প্রাথমিকভাবে হাতিটির শরীরে কোনও দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না, তা নিয়ে বনদপ্তর এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানায়নি। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের বনকর্মী, রেঞ্জ অফিসার এবং অন্যান্য বন আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সঙ্গে সঙ্গে এলাকা ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করা হয়।
বনদপ্তরের কর্মীরা হাতিটির মৃতদেহ উদ্ধারের কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বন আধিকারিকদের মতে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই হাতিটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। স্বাভাবিক মৃত্যু, অসুস্থতা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, বিষক্রিয়া কিংবা অন্য কোনও কারণে মৃত্যু হয়েছে কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
জলদাপাড়া ও সংলগ্ন বনাঞ্চলে প্রায়ই বন্যহাতির বিচরণ দেখা যায়। খাদ্যের সন্ধানে কিংবা দলছুট হয়ে হাতিরা মাঝেমধ্যেই লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। ফলে বনাঞ্চল সংলগ্ন গ্রামগুলিতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাতের ঘটনাও নতুন নয়। তবে একটি পূর্ণবয়স্ক দাতাল হাতির এভাবে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় বনদপ্তর যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেরই প্রশ্ন, কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে এত বড় একটি বন্যপ্রাণীর মৃত্যু হল। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত করা হবে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ এবং হাতির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে স্থানীয় মহলে। বনদপ্তরের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাতিটির মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট মন্তব্য করতে নারাজ আধিকারিকরা। তবে দ্রুত ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।

