শিলিগুড়ি, ২১ জুন:
রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন দলবদল ও নেতৃত্বের পরিবর্তনের জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফের আইএনটিইউসি (INTUC)-তে যোগদান করলেন বর্ষীয়ান শ্রমিক নেতা অলোক চক্রবর্তী। একসময় আইএনটিইউসি-র রাজ্য সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা অলোক চক্রবর্তী পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছিলেন। সেখানে তিনি সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করেন। তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর আবারও নিজের পুরনো সংগঠন আইএনটিইউসি-র হাত ধরলেন তিনি।
রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা পদত্যাগ করছেন, অন্যদিকে অনেকেই দল পরিবর্তনের পথ বেছে নিচ্ছেন। এই পরিবর্তনের আবহেই তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে শ্রমিক সংগঠনের পুরনো ঠিকানায় ফিরে এলেন অলোক চক্রবর্তী।
দলে ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইএনটিইউসি-র পক্ষ থেকে তাঁকে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক পদে নিযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের আটটি জেলার সাংগঠনিক দায়িত্বও তাঁর কাঁধে তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তিনি ন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ প্ল্যান্টেশন ওয়ার্কার্স-এর জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই দায়িত্বগুলি তাঁকে দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।
নিজের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বলতে গিয়ে অলোক চক্রবর্তী জানান, তৃণমূল কংগ্রেসে থাকার সময় তিনি সাধারণ মানুষের জন্য যেভাবে কাজ করতে চেয়েছিলেন, সেই সুযোগ ও পরিসর তিনি পাচ্ছিলেন না। তবে দল ছাড়ার পেছনে কারও বিরুদ্ধে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো অভিযোগ নেই বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি।
অলোক চক্রবর্তী বলেন, “আমি কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নিয়ে দল ছাড়িনি। আমার মূল লক্ষ্য সবসময়ই খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করা। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমি আবার আমার পুরনো সংগঠনে ফিরে এসেছি। বহুদিন পর পরিচিত ও আপন সংগঠনে ফিরে এসে আমি অত্যন্ত আপ্লুত এবং আনন্দিত। আগামী দিনে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে আরও বৃহত্তর পরিসরে কাজ করার সুযোগ পাব বলে আশা করছি।”
তাঁর এই প্রত্যাবর্তন উত্তরবঙ্গের শ্রমিক সংগঠন ও রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এই নেতার ফের আইএনটিইউসি-তে সক্রিয় ভূমিকা আগামী দিনে সংগঠনের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

