মাথাভাঙ্গা, ১৯ জুন:
কোচবিহার জেলার শীতলকুচি এলাকায় সারা ভারত কৃষক সভার ডেপুটেশন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ডেপুটেশন জমা দেওয়াকে ঘিরে সিপিআইএম এবং বিজেপির মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সিপিআইএম নেতৃত্বের অভিযোগ, সারা ভারত কৃষক সভা-র পক্ষ থেকে একাধিক দাবিদাওয়া নিয়ে শীতলকুচির বিডিওর কাছে ডেপুটেশন জমা দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। সংগঠনের দাবি ছিল, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া বা ‘ডিলিট’ হওয়া ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা, বিচারাধীন ভোটারদের নাম পুনর্বহাল করা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি বিষয় নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। এই দাবিগুলি তুলে ধরতেই সংগঠনের কর্মী-সমর্থকেরা জমায়েত হয়েছিলেন বলে দাবি বাম নেতৃত্বের।
তবে অভিযোগ, ডেপুটেশন জমা দিতে যাওয়ার সময় বিজেপির পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়। সিপিআইএমের দাবি, তাঁদের কর্মসূচি ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যে হুমকি প্রদর্শন করা হয় এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। ফলে কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি। বিজেপি নেতা কনক চন্দ্র বর্মন জানান, সিপিআইএমের আনা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর দাবি, সিপিআইএম তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের সঙ্গে নিয়ে শীতলকুচিতে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছিল। বিজেপি কর্মীরা সেই পরিস্থিতির প্রতিবাদ করলে তাঁদের উপরই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিজেপির আরও দাবি, ঘটনাক্রমে তাঁদের বেশ কয়েকজন কর্মী মারধরের শিকার হয়েছেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার জন্য সিপিআইএমকেই দায়ী করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। ফলে ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র দোষারোপের রাজনীতি।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ-এর শীতলকুচি থানার পুলিশ। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে উত্তেজনা প্রশমিত করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বড় ধরনের কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শীতলকুচির রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে সিপিআইএম ডেপুটেশন কর্মসূচিতে বাধার অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে বিজেপি পাল্টা দাবি করছে যে তারাই আক্রান্ত হয়েছে। ফলে প্রকৃত ঘটনা কী, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটার তালিকা, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং প্রশাসনিক দাবিদাওয়াকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে এই ধরনের রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়তে পারে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মত, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া উচিত এবং কোনও পক্ষেরই সংঘাতের পথে না যাওয়াই কাম্য।

