কোচবিহার, ২১ জানুয়ারী :
কেন্দ্রীয় পুলিশের নামে এসআইআর (SIR) নোটিশ—আর তাতেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে কেন্দ্র সরকার ও নির্বাচন কমিশন। কোচবিহার জেলায় সামনে আসা এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ, আতঙ্ক ও বিস্ময় দানা বেঁধেছে। প্রশ্ন উঠছে—দেশে কি তবে নাগরিকত্ব এখন সন্দেহের তালিকায়?
একজন যুবক কেন্দ্রীয় বাহিনীতে যোগ দিতে গেলে যেসব কঠোর পরীক্ষা ও যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তা দেশের প্রতিটি নাগরিক জানেন। শারীরিক পরীক্ষা থেকে শুরু করে লিখিত পরীক্ষা, চরিত্র যাচাই, নাগরিকত্ব যাচাই—একাধিক ধাপে কড়া নজরদারির পরই মিলেছে চাকরি।
অথচ সেই প্রক্রিয়া উতরে যাওয়া একজন প্রাক্তন সিআরপিএফ জওয়ানের হাতেই যদি এসআইআর নোটিশ পৌঁছে যায়, তাহলে প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায় দাঁড়ায়?
ঘটনাটি কোচবিহার এক নম্বর ব্লকের চিলকিরহাট অঞ্চলের। ওই এলাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেন, যিনি দীর্ঘ কয়েক বছর বছর সুনামের সঙ্গে সিআরপিএফে চাকরি করেছেন। দেশরক্ষার দায়িত্ব পালন করা সেই প্রাক্তন জওয়ান আজ প্রশ্নের মুখে—তিনি কি তবে এই দেশের নাগরিক নন? এমন নোটিশ পৌঁছনোর পর এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—যাঁর পরিচয়, ঠিকানা ও নাগরিকত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক দপ্তর দ্বারা বারবার যাচাই হয়েছে, তাঁর ক্ষেত্রেই যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে গ্রামের সাধারণ মানুষ, পরিযায়ী শ্রমিক কিংবা প্রান্তিক নাগরিকদের কী পরিণতি অপেক্ষা করছে?
এসআইআর-এর নামে রাজ্যের একের পর এক জেলায় যেভাবে নোটিশ বিতর্ক তৈরি হচ্ছে, তাতে অনেকেই একে প্রশাসনিক ভুল বলে মানতে নারাজ।
বিরোধীদের দাবি, এটা পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করার কৌশল। নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহের আবহ তৈরি করে মানুষকে হয়রানি করাই কি উদ্দেশ্য?
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন রাজনৈতিক মহল।
প্রশ্ন উঠছে—দেশরক্ষায় নিয়োজিত একজন প্রাক্তন জওয়ানকেই যদি নাগরিকত্ব প্রমাণের নোটিশ ধরিয়ে দেওয়া হয়, তবে দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্র কোন পথে এগোচ্ছে?

