জলপাইগুড়ি, ১৯ জুন:
কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দেশের যুব সমাজকে সংগঠিত ক্ষেত্রে আরও বেশি যুক্ত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা (PM-VBRY)। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও এই কর্মসূচির সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এদিন দেশের প্রায় ২০০টি স্থানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই উপলক্ষে জলপাইগুড়ি শহরের জেলা পরিষদ প্রেক্ষাগৃহে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংস্থা (EPFO)-র আঞ্চলিক দফতর। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত কুমার রায়, পিএফ কমিশনার পবন বনসাল-সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, সংগঠিত ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি এবং কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, কারখানা এবং অন্যান্য সংগঠিত ক্ষেত্রে নতুনভাবে নিযুক্ত কর্মীরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আর্থিক সুবিধা পাবেন।
পিএফ কমিশনার পবন বনসাল জানান, কারখানার কাজে যুক্ত নতুন কর্মীরা এই প্রকল্পের আওতায় চার বছর পর্যন্ত আর্থিক সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নতুন কর্মীদের জন্য দুই বছর পর্যন্ত সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলার প্রায় এক হাজার কর্মী সরাসরি উপকৃত হবেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন রাজ্যের কর্মীদের জন্য প্রায় ২,৪০০ কোটি টাকা হস্তান্তরের কর্মসূচিরও সূচনা করেছেন এবং সেই অনুষ্ঠানই সারা দেশে সম্প্রচার করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এই প্রকল্প কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংসদ জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, উত্তরবঙ্গের যুব সমাজের জন্য এই প্রকল্প বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে চা বাগান অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদী। তাঁর দাবি, প্রকল্পের ফলে স্থানীয়ভাবে কাজের সুযোগ বাড়লে ভিনরাজ্যে কাজের সন্ধানে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা কমতে পারে এবং বহু যুবক-যুবতী নিজেদের এলাকাতেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।
চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও এই প্রকল্পকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। ক্ষুদ্র চা বাগানের মালিক বিজয় গোপাল চক্রবর্তী বলেন, বর্তমানে চা বাগানগুলিতে শ্রমিক সংকট একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক তরুণ-তরুণী চা শিল্পে কাজ করতে আগ্রহ দেখান না, যার ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হয়। তাঁর আশা, এই প্রকল্পের মাধ্যমে শ্রমিকরা অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পেলে চা শিল্পে নতুন করে কর্মসংস্থানের আগ্রহ বাড়বে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা জানান, কেন্দ্র সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধুমাত্র কর্মসংস্থান বৃদ্ধি নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে যুব সমাজকে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা। সংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত নতুন কর্মীদের আর্থিক সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে বলেও তাঁদের মত।
উত্তরবঙ্গের শিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মহলের একাংশের মতে, প্রকল্পটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এখন নজর থাকবে প্রকল্পের সুবিধা কত দ্রুত সাধারণ কর্মীদের কাছে পৌঁছায় এবং বাস্তব ক্ষেত্রে তার প্রভাব কতটা পড়ে, সেদিকেই।

