জলপাইগুড়ি, ২১ জুন:
ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হলেন একাধিক বাসযাত্রী। রবিবার জলপাইগুড়ি-ময়নাগুড়ি ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের উল্লাডাবরী এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেলারের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে একটি দ্রুতগামী সরকারি বাস। দুর্ঘটনার জেরে বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতরভাবে আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিলিগুড়ি থেকে কোচবিহারের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার (এনবিএসটিসি) একটি সিএনজি চালিত বাস। বাসটি জাতীয় সড়ক ধরে উল্লাডাবরী এলাকায় পৌঁছালে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেলারের পিছনে আচমকাই সজোরে ধাক্কা মারে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বাসটির গতি বেশ বেশি ছিল। ফলে সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ছিল যে বাসের সামনের অংশ কার্যত ট্রেলারের পিছনে গিয়ে ঢুকে যায়।
দুর্ঘটনার সময় বাসের সামনের সারিতে বসে থাকা যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি আঘাত পান। হঠাৎ বিকট শব্দে বাসের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক যাত্রী আসন থেকে ছিটকে পড়েন এবং চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বিকট আওয়াজ শুনে আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং উদ্ধারকাজে হাত লাগান। খবর পেয়ে ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পাশাপাশি দমকল বিভাগের কর্মীরাও ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহত যাত্রীদের বাস থেকে বের করে দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্সে করে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি অথবা চালকের অসতর্কতার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাস ও ট্রেলার দুটিকেই পুলিশের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।
এই ঘটনায় জাতীয় সড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আহত যাত্রীদের পরিবার-পরিজনদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ফের একবার জাতীয় সড়কে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত গতিতে যানবাহন চালানোর প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জাতীয় সড়কে নিয়মিত নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।

