কোচবিহার, ২১ জুন:
জেলার বিশিষ্ট নাগরিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের নিয়ে কোচবিহার উৎসব অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রবুদ্ধ সম্মেলন’। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক কাঠামো, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতেই এই বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন, সহ-সভাপতি মিনতি ঈশ্বর, সাংগঠনিক সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী-সহ দলের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা ও কর্মীরা। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনে বক্তারা রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, সুশাসন ও জনকল্যাণমূলক উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে যে, কোনও রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন শুধুমাত্র রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে সম্ভব নয়; বরং শিক্ষাবিদ, সমাজসেবী, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ মানুষের মতামত ও পরামর্শ উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বক্তারা বলেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের অভিজ্ঞতা ও চিন্তাভাবনাকে সামনে রেখে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে উন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে। সেই কারণেই বিজেপি বিভিন্ন সময়ে প্রবুদ্ধ সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মানুষের স্বার্থে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনমুখী প্রশাসন গড়ে তোলাই বিজেপির মূল লক্ষ্য। সাধারণ মানুষের সমস্যা, চাহিদা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়েই আমরা আগামী দিনের পরিকল্পনা তৈরি করতে চাই। প্রবুদ্ধ সমাজের মতামত আমাদের সেই কাজে দিশা দেখাবে।”
তিনি আরও বলেন, “রাজ্যের উন্নয়নের জন্য শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি যথেষ্ট নয়। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সেই উদ্দেশ্যেই এই প্রবুদ্ধ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।”
সম্মেলনে উপস্থিত বিশিষ্টজনেরাও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, যুব সমাজের উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক বিকাশ এবং সামাজিক সম্প্রীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেন। অনেকেই জেলার উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব ও পরামর্শও তুলে ধরেন। আলোচনায় স্থানীয় সমস্যার পাশাপাশি বৃহত্তর সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলিও গুরুত্ব পায়।
অনুষ্ঠান জুড়ে ছিল মতবিনিময়, আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে চিন্তাভাবনার পরিবেশ। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন অংশগ্রহণকারীদের একাংশ।
গোটা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, ভবিষ্যতেও এই ধরনের প্রবুদ্ধ সম্মেলনের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে সংযোগ আরও মজবুত করা হবে এবং তাঁদের মতামতকে সংগঠনের কর্মসূচিতে গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

