কোচবিহার, ২৩ জুন:
দীর্ঘদিন পর নিজের লোকসভা কেন্দ্র কোচবিহারে ফিরলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন নেতা ও বিদ্রোহী সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে জেলার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হিসেবে কোচবিহারের রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করলেও সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতে শুরু করে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় তিনি দলের সংগঠন ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতে শুরু করেন। বিশেষ করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে একচ্ছত্র আধিপত্যের অভিযোগ তুলে সরব হন তিনি।
এরপর রাজ্যের শাসকদলের একাধিক অসন্তুষ্ট ও বিদ্রোহী সাংসদের সঙ্গে তাঁর নামও সামনে আসে। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, দিল্লিতে বিজেপির এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্যান্য বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। পরবর্তীতে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ NCPI-তে যোগদান করেন বলে জানা যায়। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই কোচবিহারের রাজনীতিতে তাঁকে ঘিরে নানা জল্পনা শুরু হয়।
দীর্ঘদিন নিজের লোকসভা কেন্দ্রে অনুপস্থিত থাকার পর মঙ্গলবার কোচবিহারে ফিরে আসেন তিনি। তাঁর আগমন ঘিরে রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। অনেকেই আশা করেছিলেন, বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান, দলবদলের কারণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে মতামত জানাবেন।
তবে কোচবিহারে পৌঁছে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেও কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করতে চাননি জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি কার্যত নীরব থাকেন এবং নিজের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। তাঁর এই নীরবতা রাজনৈতিক মহলে আরও জল্পনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে, আগামী দিনে তাঁর রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনতে চান না তিনি।
জেলার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কোচবিহারে তাঁর প্রত্যাবর্তন নিছক সাংগঠনিক সফর নাকি ভবিষ্যতের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। একসময়ের প্রভাবশালী সাংসদের এই সফরকে ঘিরে তৃণমূল, বিজেপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।
ফলে দীর্ঘদিন পর জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার কোচবিহারে ফেরা এবং সাংবাদিকদের সামনে তাঁর নীরবতা—দুই মিলিয়ে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে তিনি কী বার্তা দেন এবং কোন রাজনৈতিক পথে এগোন, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে কোচবিহারের রাজনৈতিক মহল।

