আলিপুরদুয়ার, ২৫ জুন:
আবাস যোজনার উপভোক্তাদের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে কুমারগ্রামে চার তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করল কুমারগ্রাম থানার পুলিশ। উপভোক্তাদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার রাতে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার ধৃতদের আলিপুরদুয়ার জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমারগ্রাম এলাকায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আবাস যোজনার সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে সরকারি প্রকল্পের টাকা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে কয়েকজন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে কুমারগ্রাম থানার পুলিশ। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে বেশ কিছু তথ্য ও অভিযোগের সত্যতা মিলতেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল নেতাদের মধ্যে রয়েছেন কুমারগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ হলদিবাড়ি মৌজার ১০/৬৭ নম্বর বুথের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য তথা তৃণমূল কংগ্রেসের কুমারগ্রাম অঞ্চল (সাউথ) সভাপতি রথীন দাস, ১০/৬৮ নম্বর বুথের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য তপন বর্মন, তৃণমূল নেতা আমিরুল মিঞা এবং উত্তম বর্মন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, আবাস যোজনার ঘর পাওয়ার জন্য উপভোক্তাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে একাধিক উপভোক্তা লিখিতভাবে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্তে নামে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে।
বৃহস্পতিবার ধৃতদের কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে আলিপুরদুয়ার জেলা আদালতে তোলা হয়। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, অভিযোগের সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং কাটমানি নেওয়ার অভিযোগের পরিধি কতটা বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতের আবেদনও করা হতে পারে।
এই ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে অভিযোগকারীরা পুলিশের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন, অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের আইনত দোষী বলা যায় না।
এখন তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং আদালতের পর্যবেক্ষণ কী হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে প্রশাসন, রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের।

