শিলিগুড়ি, ২৮ জুন:
এক-দু’বছর নয়, টানা প্রায় চার দশক ধরে স্থায়ী নিকাশি ব্যবস্থার অভাবে চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন মাটিগাড়া ২ নম্বর অঞ্চলের ক্ষুদিরাম পল্লীর বাসিন্দারা। প্রতি বছর বর্ষা এলেই জলমগ্ন হয়ে পড়ে গোটা এলাকা। রাস্তাঘাট ডুবে যায়, বাড়িঘরে জল ঢুকে পড়ে, আর সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে দুর্ভোগ। বহুবার প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে সমস্যার কথা জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান না মেলায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
গতকালের টানা প্রবল বৃষ্টির পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই এলাকার অধিকাংশ রাস্তায় হাঁটু সমান জল জমে যায়। নিকাশির কোনও ব্যবস্থা না থাকায় সেই জল দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকে। জল ঢুকে পড়ে বহু বাড়িতে। অনেক পরিবারের আসবাবপত্র, পোশাক, খাদ্যসামগ্রী এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যায়। ঘরের মধ্যে জল জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা। জল জমে থাকায় স্কুলপড়ুয়াদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। কর্মস্থলে যাওয়া-আসাতেও চরম অসুবিধার মুখে পড়ছেন বহু মানুষ। অনেকেই বাধ্য হয়ে জল ভেঙেই চলাচল করছেন। দীর্ঘক্ষণ জল জমে থাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে এবং জলবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বর্ষাতেই একই চিত্র দেখা যায়। অথচ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বহুবার সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, পঞ্চায়েত এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হলেও পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি তাঁদের। মাঝে মধ্যে অস্থায়ীভাবে নালা পরিষ্কার করা হলেও স্থায়ী নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় সমস্যা থেকেই যাচ্ছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এলাকায় পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির জল বের হওয়ার কোনও পথ নেই। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বর্ষার কয়েক মাস তাঁদের কার্যত জলবন্দি অবস্থায় কাটাতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার কারণে এলাকায় উন্নয়নের দাবিও জোরালো হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে একটি আধুনিক ও স্থায়ী নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হোক। তাঁদের আশা, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, যাতে আগামী দিনে বর্ষা এলেই আর একই দুর্ভোগের শিকার হতে না হয়। এখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং দ্রুত সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছেন ক্ষুদিরাম পল্লীর শতাধিক পরিবার।

