কোচবিহার , ২৯জুন
কোচবিহারের মোয়ামারী অঞ্চল সংলগ্ন দীঘলহাটি-ময়নাগুড়ি এলাকায় এক ২৬-২৭ বছর বয়সী যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সোমবার সকালে নিজের বাড়ির একটি ঘর থেকে উদ্ধার হয় ওই যুবকের নিথর দেহ। তবে এই মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি এর পিছনে রয়েছে কোনও পরিকল্পিত হত্যার ছক, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে এলাকাজুড়ে।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সুকটাবাড়ি ফাঁড়ির পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।মৃতের পরিবারের দাবি, এটি কোনওভাবেই আত্মহত্যা হতে পারে না। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই যুবকের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি চলছিল। প্রায় এক বছর ধরে তাঁর স্ত্রী শ্বশুরবাড়িতে না থেকে বাপের বাড়িতে থাকতেন। দুই পরিবারের সম্পর্কও ছিল অত্যন্ত তিক্ত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও স্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা ওই যুবকের উপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিন দিন আগেও এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই দেখা গিয়েছিল ওই যুবককে। এরপর টানা বৃষ্টির কারণে কেউ আর তাকে দেখতে পাননি। সোমবার সকালে বাড়ির একটি ঘরের বিছানার এক কোণায় তাঁর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।ঘরের উপরে একটি গামছা ঝুলতে দেখা গেলেও মৃতদেহের অবস্থান দেখে পরিবারের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, যদি এটি আত্মহত্যা হয়, তবে দেহের অবস্থান এমন কেন?এছাড়াও পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার খবর পাওয়ার পরও যুবকের স্ত্রী কিংবা তাঁর পরিবারের কেউ ঘটনাস্থলে আসেননি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। আপাতত ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
এখন সকলের নজর সেই রিপোর্টের দিকেই— এটি আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তার উত্তর মিলবে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টেই।

