মাথাভাঙ্গা, ৩০ জুন:
বহু কষ্ট করে অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে সংসারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির স্বপ্ন দেখেছিলেন এক ব্যক্তি। দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ের টাকায় অবশেষে একটি নতুন ই-অটো রিক্সা কিনেছিলেন তিনি। কিন্তু নতুন গাড়ি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথেই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মাথাভাঙ্গা-শীতলকুচি সড়কের অ্যালংমারি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায় সদ্য কেনা ই-অটোটি। ঘটনায় আহত হন চালকের স্ত্রী। দুর্ঘটনার জেরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাথাভাঙ্গা শহরের একটি শোরুম থেকে নতুন ই-অটো রিক্সাটি কেনেন ওই ব্যক্তি। বহুদিন ধরেই তিনি এই গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন, যাতে ই-অটো চালিয়ে পরিবারের আয়ের নতুন পথ তৈরি করা যায়। নতুন গাড়ি কেনার আনন্দে স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে শীতলকুচির বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
অ্যালংমারি এলাকায় পৌঁছতেই হঠাৎ ই-অটোটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে আশপাশের বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা গাড়ির ভেতর থেকে আহতদের উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনায় চালকের স্ত্রী গুরুতরভাবে আহত হন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে দ্রুত মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাঁর চিকিৎসা শুরু করেন। চালক ও শিশুদের সামান্য আঘাত লাগলেও বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশ। পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে এবং পরে দুর্ঘটনাগ্রস্ত ই-অটোটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এদিকে এই দুর্ঘটনার পর ফের সামনে এসেছে অ্যালংমারি এলাকার নির্মীয়মাণ কালভার্ট নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কয়েক মাস আগে ওই কালভার্টের নির্মাণকাজ শুরু হলেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ কার্যত বন্ধ রয়েছে। মাঝখানে প্রায় দু’মাস সম্পূর্ণভাবে কাজ বন্ধ ছিল। বর্তমানে কিছু কাজ শুরু হলেও এখনও কালভার্ট নির্মাণ শেষ হয়নি। ফলে রাস্তার ওই অংশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাতে কিংবা বৃষ্টির সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি সংস্থার গাফিলতি ও নির্মাণকাজে চরম ধীরগতির কারণেই সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ওই রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে। তাঁদের দাবি, নির্মীয়মাণ অংশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সতর্কীকরণ বোর্ড কিংবা ব্যারিকেডেরও অভাব রয়েছে। ফলে বাইক, ই-রিক্সা ও ছোট গাড়ির চালকদের জন্য রাস্তার ওই অংশ অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
এলাকাবাসীরা জানান, এই প্রথম নয়। এর আগেও একই জায়গায় একটি মোটরবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়, যাতে দুই আরোহী গুরুতর আহত হন। এছাড়াও প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে ওই এলাকায়। বারবার দুর্ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তরফে কার্যকর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাঁদের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একটাই দাবি, আর কোনও দুর্ঘটনার আগে দ্রুত নির্মীয়মাণ কালভার্টের কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে এবং রাস্তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পর্যাপ্ত ব্যারিকেড, আলোর ব্যবস্থা ও সতর্কীকরণ চিহ্ন বসানোরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

