শিলিগুড়ি, ৩০ জুন:
গত বছরের ২২ জুন শিলিগুড়ির হিল কার্ট রোডের একটি স্বনামধন্য গয়নার দোকানে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনার পর শহরের গয়নার শোরুমগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সেই নজরদারিতে কিছুটা শিথিলতা আসতেই ফের দুষ্কৃতীদের নিশানায় শিলিগুড়ির একটি গয়নার শোরুম। যদিও এআই প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পুলিশের তৎপরতায় বড়সড় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেল শোরুম কর্তৃপক্ষ। ঘটনায় দুই দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আরও একজন বা একাধিক অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার গভীর রাত আনুমানিক ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে সেবক রোডের একটি সর্বভারতীয় ব্র্যান্ডের গয়নার শোরুমে হানা দেয় ভিনরাজ্যের একদল দুষ্কৃতী। সেই সময় গোটা এলাকা কার্যত জনশূন্য ছিল। দুষ্কৃতীরা শোরুমের শাটার কেটে ভিতরে প্রবেশ করে চুরির চেষ্টা চালায়।
তবে তারা বুঝতে পারেনি যে গোটা শোরুমটি অত্যাধুনিক সিসিটিভি ও এআই-ভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। শোরুমের ভিতরে মানুষের উপস্থিতি শনাক্ত করতেই এআই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংস্থার বেঙ্গালুরুস্থিত কন্ট্রোল রুমে সতর্কবার্তা পাঠায়। সেখান থেকে দ্রুত যোগাযোগ করা হয় শোরুমের মালিক নাতাশা মার্টিনের সঙ্গে। বিষয়টি জানতে পেরেই তিনি এক মুহূর্ত দেরি না করে ভক্তিনগর থানায় ফোন করে পুরো ঘটনার কথা জানান।
খবর পাওয়ার পরই ভক্তিনগর থানার ওসি-সহ সাদা পোশাকের পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। শোরুমের কাছাকাছি পৌঁছতেই পুলিশ দেখতে পায়, দু’জন ব্যক্তি দ্রুত দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছে। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ ধাওয়া শুরু করে।
পুলিশের ধাওয়া খেয়ে দুই দুষ্কৃতী দুই দিকে পালিয়ে যায়। একজন জ্যোতিনগরের দিকে এবং অপরজন অন্য একটি রাস্তা ধরে পালানোর চেষ্টা করে। ধাওয়া করে শেষ পর্যন্ত একজনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ধৃতের ব্যাগ তল্লাশি করে বেশ কিছু সোনার গয়না উদ্ধার করা হয়।
এরপর পুলিশ আবার শোরুমে ঢুকে দেখে, দুষ্কৃতী দলের আরও এক সদস্য তখনও ভিতরে চুরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাকেও ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে অভিযুক্তদের আরও এক বা একাধিক সঙ্গী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। ধৃত দুই অভিযুক্ত ভিনরাজ্যের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। তাদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। পলাতক দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছে এবং এর সঙ্গে অন্য কোনও আন্তঃরাজ্য চুরি চক্রের যোগ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশের মতে, অত্যাধুনিক এআই-ভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দ্রুত পুলিশি পদক্ষেপের ফলেই সম্ভাব্য বড়সড় আর্থিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনার পর শহরের অন্যান্য গয়নার শোরুমেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

