আলিপুরদুয়ার, ২ জুলাই:
কুমারগ্রাম ব্লকের ভল্কা রেঞ্জের অন্তর্গত বারবিশা বিটের লেফরাগুড়ি বনবস্তিতে একটি পূর্ণবয়স্ক বুনো হাতির রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বনবস্তি সংলগ্ন এলাকায় হাতিটির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা সঙ্গে সঙ্গে বন বিভাগকে খবর দেন। খবর পেয়ে বন বিভাগের আধিকারিক ও কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে বনবস্তির বাসিন্দারা দৈনন্দিন কাজের জন্য বাইরে বেরিয়ে হাতিটির মৃতদেহ দেখতে পান। এরপর বিষয়টি দ্রুত বন বিভাগের নজরে আনা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ভল্কা রেঞ্জের বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাটি ঘিরে ফেলা হয়। ঘটনাস্থলে কৌতূহলী মানুষের ভিড়ও জমতে শুরু করে।
প্রাথমিকভাবে বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাতিটির মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু, অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, নাকি অন্য কোনও কারণে মৃত্যু হয়েছে— সেই বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। বিষয়টির সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী হাতিটির মৃতদেহের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ পশুচিকিৎসকদের উপস্থিতিতে নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে ময়নাতদন্ত করা হবে। বন আধিকারিকদের বক্তব্য, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চলে বুনো হাতির চলাচল অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা। বিশেষ করে ডুয়ার্স অঞ্চলের বিভিন্ন বনাঞ্চল ও বনবস্তিতে প্রায়ই হাতির বিচরণ দেখা যায়। ফলে এই ধরনের একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির অস্বাভাবিক মৃত্যু বন বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সকলকে গুজব বা ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আবেদন জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনও অনুমান না করারও অনুরোধ জানিয়েছেন বন আধিকারিকরা।
বন বিভাগের দাবি, ঘটনার প্রতিটি দিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ফরেনসিক ও বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হবে। তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই হাতিটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

