শিলিগুড়ি, ৭ জুন:
নারী পাচার রোধে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন থেকে শুরু করে পাহাড়-সমতলের সমন্বিত উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘হিমালয়ান হিল সিটি’ প্রকল্প— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। রবিবার রাজের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল প্রথমবার উত্তরকন্যা প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, নগরোন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা এবং সামাজিক সুরক্ষাকে সামনে রেখেই এই উদ্যোগগুলি গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, উত্তরবঙ্গে নারী ও শিশু পাচার রোধে বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এর জন্য একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হচ্ছে, যেখানে প্রশাসন, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করা হবে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলেও তিনি জানান।
পাহাড় ও সমতলের মধ্যে উন্নয়নের ব্যবধান কমাতে নতুন করে ‘হিমালয়ান হিল সিটি’ প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এই প্রকল্পে দার্জিলিং পাহাড়ের চারটি পৌরসভা এবং শিলিগুড়ি পৌরনিগমকে একত্রিত করে সমন্বিত নগর উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। পর্যটন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহণ, পানীয় জল এবং নাগরিক পরিষেবার উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের কথা ভাবা হচ্ছে।
শহরকে আরও পরিচ্ছন্ন রাখতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কড়া পদক্ষেপের কথাও ঘোষণা করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী ১ জুলাই থেকে নির্মল বন্ধুদের জন্য বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর ফলে কর্মীদের উপস্থিতি ও কাজের স্বচ্ছতা আরও বাড়বে বলে প্রশাসনের আশা।
এছাড়াও শহরের বিভিন্ন স্থানে নির্ধারিত ডাম্পিং পয়েন্ট ছাড়া অন্যত্র আবর্জনা ফেললে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে জরিমানা ধার্য করা হবে। নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন প্রয়োগের মাধ্যমেও পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, পাহাড় ও সমতলের মধ্যে সমন্বিত উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন নগর পরিবেশ এবং সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ— এই তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েই আগামী দিনে কাজ করবে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর।

