কোচবিহার, ৫ জুলাই:
‘বন্দেমাতরম’ গানের দেড়শ বছর পূর্তি উপলক্ষে কোচবিহারের তল্লীগুড়িতে উন্মোচন করা হল ভারত মাতার একটি মূর্তি। রবিবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধ, ঐতিহ্য এবং জাতীয় চেতনার বার্তা তুলে ধরা হয়। এই উপলক্ষে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি, সাংস্কৃতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি বিশেষ তাৎপর্য লাভ করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন, হিরন্ময় গোস্বামী মহারাজ, সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রপৌত্র সজল চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক বিশিষ্ট অতিথি। মূর্তি উন্মোচনের পাশাপাশি ‘বন্দেমাতরম’-এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব, স্বাধীনতা আন্দোলনে এর ভূমিকা এবং জাতীয় চেতনায় এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আয়োজকদের দাবি, কোচবিহারে এই প্রথম ভারত মাতার মূর্তি স্থাপন করা হল। সেই কারণে স্থানীয় মানুষের মধ্যেও উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বহু মানুষ এই উদ্যোগকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐতিহ্যের বার্তা পৌঁছে দিতে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলেও মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রপৌত্র সজল চট্টোপাধ্যায় বলেন, বর্তমান সরকার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-সহ দেশের বিভিন্ন মনীষীর অবদানকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনামলে শুধুমাত্র শোষণ হয়েছে এবং জাতীয় ভাবধারাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
একই সুর শোনা যায় রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের বক্তব্যেও। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং মনীষীদের স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে সরকার একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তাঁর মতে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো মহান সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদদের অবদান নতুন করে স্মরণ করা এবং তাঁদের আদর্শকে সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।
তবে অনুষ্ঠানে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে যে রাজনৈতিক মন্তব্য করা হয়েছে, সে বিষয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে, ‘বন্দেমাতরম’-এর দেড়শ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভারত মাতার মূর্তি উন্মোচনের এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে কোচবিহারে দেশাত্মবোধ ও ঐতিহ্যচর্চার এক বিশেষ আবহ তৈরি হয়েছে।

