জলপাইগুড়ি, ২৪ জুন:
জলপাইগুড়ি শহরে হঠাৎ করেই সামনে এসেছে কয়েক বছর আগের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির ছবি, আর সেই ছবিকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের একটি পুরনো ছবি রাতারাতি শহরের বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার ও ব্যানারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ছবিটি ২০১৯ সালের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় তোলা। ওই ছবিতে প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতীকী রূপ সাজিয়ে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরানোর দৃশ্যে সৈকত চট্টোপাধ্যায়কে দেখা যাচ্ছে। সেই সময়ের রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ হিসেবেই কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে দীর্ঘ কয়েক বছর পর সেই পুরনো ছবিই আবার সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সম্প্রতি রাতের অন্ধকারে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বড় বড় ব্যানার ও পোস্টার টাঙিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে ওই পুরনো ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে। কে বা কারা এই পোস্টার লাগিয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সকাল হতেই শহরবাসীর নজরে আসে বিষয়টি এবং তা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।
বিজেপির দাবি, এটি কোনও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নয়, বরং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ। দলের নেতাদের বক্তব্য, সস্তার রাজনৈতিক প্রচারের উদ্দেশ্যে অতীতে এই ধরনের কর্মসূচি করা হয়েছিল। সেই ঘটনার বিরুদ্ধেই এখন মানুষ নিজেদের মত প্রকাশ করছেন। তাঁদের মতে, জনসাধারণ সেই সময়ে প্রতিবাদ জানানোর সুযোগ না পেলেও বর্তমানে বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এই পোস্টার লাগানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং পুরমন্ত্রীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রশংসা করেছেন। সেই কারণেই তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার লক্ষ্যে বিরোধী মহল এই ধরনের কাজ করছে বলে অভিযোগ তাঁর।
সৈকত চট্টোপাধ্যায় বলেন, অতীতের একটি ঘটনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে সামনে এনে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা চলছে। বাস্তব সমস্যার সমাধান এবং উন্নয়নের প্রশ্ন থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই এই ধরনের প্রচার করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে জলপাইগুড়ির রাজনৈতিক পরিবেশ আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পুরনো একটি ছবি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসায় আগামী দিনে এই বিষয়টি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। শহরবাসীর একাংশও বিষয়টি নিয়ে নানা মত প্রকাশ করছেন। ফলে একটি পুরনো ছবি ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্ক এখন জলপাইগুড়ির অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

