শিলিগুড়ি ,৬ জুলাই
খেত বাঁচাও’ অভিযানে কৃষির নবজাগরণের বার্তা, যুব সমাজকে কৃষিমুখী হওয়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মনের
ভারতীয় কিষাণ সংঘ এবং ইউনিভার্সিটি অব নর্থ বেঙ্গলের COFAM-এর যৌথ উদ্যোগে সোমবার উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হল ‘খেত বাঁচাও অভিযান’ শীর্ষক প্রাকৃতিক কৃষি প্রশিক্ষণ শিবির। কৃষির প্রতি নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করা, প্রাকৃতিক চাষের প্রসার এবং কৃষকদের আধুনিক ও টেকসই কৃষি পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দেওয়াই ছিল এই প্রশিক্ষণ শিবিরের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থ ও পরিবহন প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার কৃষকদের উন্নয়নের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সাম্প্রতিক বাজেটেও কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, যার সুফল আগামী দিনে কৃষকরা পাবেন। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষিকে লাভজনক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলার পাশাপাশি যুব সমাজকে কৃষির প্রতি আগ্রহী করে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এই ধরনের প্রশিক্ষণ শিবির সেই উদ্দেশ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নতুন প্রজন্মের যুবক-যুবতীরা যদি আধুনিক ও প্রাকৃতিক কৃষি সম্পর্কে হাতে-কলমে শিক্ষা গ্রহণ করেন, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক তরুণ কৃষিক্ষেত্রে এগিয়ে আসবেন। তিনি জানান, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের COFAM-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ শিবির কৃষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও কৃষির নতুন দিগন্ত সম্পর্কে ধারণা দেবে। কৃষিকে শুধু জীবিকা নয়, একটি সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকা প্রয়োজন। COFAM-এর অধ্যাপক অমরেন্দ্র পাণ্ডে বলেন, “বর্তমান সময়ে কৃষিকে শুধু উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। প্রাকৃতিক কৃষি, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে কৃষিকে আরও টেকসই ও লাভজনক করে তুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধু শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা দেওয়া নয়, সেই জ্ঞানকে মাঠে পৌঁছে দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যেই এই প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। আমাদের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকদের পাশাপাশি যুবক-যুবতীরাও কৃষিকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় কর্মক্ষেত্র হিসেবে গ্রহণ করবে এবং আগামী দিনে কৃষিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে এক নতুন কৃষি বিপ্লবের সূচনা করবে।” অনুষ্ঠানে কৃষি বিশেষজ্ঞরা প্রাকৃতিক চাষাবাদের বিভিন্ন দিক, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের বিকল্প ব্যবহার এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার উপর বিশদ আলোচনা করেন। উপস্থিত কৃষক, শিক্ষার্থী ও অংশগ্রহণকারীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজনের দাবি জানান।

