জলপাইগুড়ি, ৭ জুলাই:
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে জলপাইগুড়ি শহরবাসীর। শহরের ৩ নম্বর রেল গুমটি এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণের অনুমোদন মিলেছে বলে জানিয়েছেন কাটিহার রেল ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) কিরেন্দ্র নারা। মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশন পরিদর্শনে এসে তিনি জানান, প্রকল্পের অনুমোদন ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করে নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু করা হবে।
মঙ্গলবার বিশেষ ট্রেনে নিউ জলপাইগুড়ি থেকে যাত্রা শুরু করে জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশন হয়ে হলদিবাড়ি স্টেশন পরিদর্শনে যান কাটিহার ডিভিশনের ডিআরএম কিরেন্দ্র নারা। এই সফরের অংশ হিসেবে তিনি জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশনে চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন। বিশেষ করে অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্প-এর অধীনে চলা পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট রেল আধিকারিকদের কাছ থেকে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট নেন।
পরিদর্শনের সময় শহরের বহু প্রতীক্ষিত ৩ নম্বর রেল গুমটি এলাকায় প্রস্তাবিত ফ্লাইওভার নির্মাণ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। রেল আধিকারিকদের সঙ্গে প্রকল্পের বিভিন্ন কারিগরি ও প্রশাসনিক দিক নিয়ে তিনি খোঁজখবর নেন।
জলপাইগুড়ি শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা হল ৩ নম্বর রেল গুমটি। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। তবে ট্রেন চলাচলের সময় দীর্ঘক্ষণ রেলগেট বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, অফিসযাত্রী, ব্যবসায়ী এবং জরুরি পরিষেবার যানবাহনকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এর ফলে যানজট নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহু বছর ধরেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হিসেবে ওই এলাকায় একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন শহরবাসী।
প্রতিটি লোকসভা, বিধানসভা এবং পুরসভা নির্বাচনের সময়ও এই ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবি ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ছিল, প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি।
পরে দ্বিতীয়বারের জন্য জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর সাংসদ ডাঃ জয়ন্ত কুমার রায় বিষয়টি রেল মন্ত্রকের নজরে আনেন। তিনি শহরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি তুলে ধরে দ্রুত প্রকল্পটির অনুমোদনের জন্য উদ্যোগ নেন। সেই প্রচেষ্টার ফলেই রেল মন্ত্রকের তরফে ফ্লাইওভার নির্মাণে ছাড়পত্র মিলেছে বলে জানা গিয়েছে।
এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ডিআরএম কিরেন্দ্র নারা জানান, আরএইচ–৫ (RH-5) এবং আরএইচ–৬ (RH-6)-এর মধ্যবর্তী অংশে ফ্লাইওভার নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রকল্পের কারিগরি দিকগুলি খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হবে। সমস্ত প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও পরিকল্পনা সম্পন্ন হওয়ার পর দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ডিআরএমের এই ঘোষণায় শহরবাসীর মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। বহু বছরের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি তাঁদের প্রত্যাশা, অনুমোদনের পর আর যেন প্রকল্পটি দীর্ঘসূত্রিতার শিকার না হয়ে দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এই ফ্লাইওভার নির্মাণ একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু যানজট কমবে না, জলপাইগুড়ি শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থাও আরও আধুনিক ও গতিশীল হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

