মাথাভাঙা, ১০ জুলাই:
চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মৃতের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-পরিজনরা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। তাঁদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং হাসপাতালে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়।
মৃত ব্যক্তির নাম তাপস দাস। তিনি মাথাভাঙা শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। পরিবারের দাবি, ফোড়া এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে শহরের একটি বেসরকারি চেম্বারে চিকিৎসক ডা. রাসেল হকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকের পরামর্শে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁকে মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি করার পর জরুরি বিভাগে কোনও চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। তাঁদের দাবি, রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক হাসপাতালে উপস্থিত হননি। একাধিকবার ফোন করে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি হাসপাতালে না এসে ফোনের মাধ্যমেই ওষুধ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের সদস্যদের আরও অভিযোগ, যথাসময়ে চিকিৎসক উপস্থিত থাকলে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু হলে তাপস দাসকে হয়তো বাঁচানো সম্ভব হতে পারত। কিন্তু চিকিৎসায় বিলম্ব ও অবহেলার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাপস দাসের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা হাসপাতালে ভিড় জমান এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে সামিল হন।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বও হাসপাতালে পৌঁছান। তাঁদের পক্ষ থেকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা পরিষেবায় গাফিলতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মাথাভাঙা থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা হাসপাতালে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং হাসপাতালের পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা হয়।
যদিও চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও ঘটনার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি।
চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ কতটা সত্য, রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনও নিয়মভঙ্গ বা অবহেলা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনিক স্তরে তদন্তের দাবি উঠেছে। তদন্তের রিপোর্টের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মিলবে।

