আলিপুরদুয়ার, ৩০জুন
ট্রেন চালকের তৎপরতা ও দায়িত্বশীলতার ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেল একটি হাতির দল। সোমবার সন্ধ্যায় আলিপুরদুয়ার–কামাখ্যা এক্সপ্রেসের লোকো পাইলট সময়মতো রেললাইনের উপর হাতির উপস্থিতি লক্ষ্য করে ট্রেনের গতি কমিয়ে দেন। ফলে তিনটি পূর্ণবয়স্ক হাতি এবং দুটি শাবক নিরাপদে রেললাইন পার হতে সক্ষম হয়।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ১৫ মিনিটে ১৩২৪৮ নম্বর আলিপুরদুয়ার জংশন–কামাখ্যা এক্সপ্রেস মাদারিহাট ও হাসিমারা স্টেশনের মধ্যবর্তী ১৩০/৬ কিলোমিটার পোস্টের কাছে পৌঁছলে কর্তব্যরত লোকো পাইলট রেললাইনের উপর একটি হাতির দলকে দেখতে পান। দলটিতে ছিল তিনটি পূর্ণবয়স্ক হাতি এবং দুটি শাবক।
পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে লোকো পাইলট সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ করেন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ট্রেনটি ধীরগতিতে এনে হাতির দলটি সম্পূর্ণভাবে রেললাইন পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা হয়। কিছুক্ষণ পর হাতিগুলি নিরাপদে জঙ্গলের দিকে চলে গেলে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
রেলকর্মীদের এই দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সতর্কতার ফলে একদিকে যেমন বন্যপ্রাণীদের জীবন রক্ষা পেয়েছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য ট্রেন দুর্ঘটনাও এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল, বনাঞ্চল সংলগ্ন রেলপথে ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রে লোকো পাইলটদের সতর্কতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চল লাগোয়া বিভিন্ন রেলপথে প্রায়ই হাতির চলাচল দেখা যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতের সময় হাতির দল খাবার বা জল খোঁজার জন্য রেললাইন অতিক্রম করে। সেই কারণে বন দফতর ও রেল কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে বিভিন্ন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। এই ঘটনার পরও বনাঞ্চল সংলগ্ন রেলপথে ট্রেন চলাচলের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

