কোচবিহার, ২৫ আগস্ট
তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কোচবিহার জেলা পরিষদের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাধিপতির বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব পাস হয়ে গেল। বুধবার একটি বিশেষ তলবী সভা ডাকা হয়, আর সেখানেই নির্ধারিত হয় জেলা পরিষদের শীর্ষ এই প্রশাসনিক পদের ভবিষ্যৎ। এদিনের এই ঘটনায় কোচবিহারের রাজনৈতিক মহলে এক নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিন জেলা পরিষদের মোট ২২ জন সদস্য সভাধিপতির বিরুদ্ধে আনীত অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে জোরালো সায় দেন। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে অন্য একটি বিষয়— এই অনাস্থা সমর্থনকারী সদস্যদের তালিকায় নাম রয়েছে বিরোধী শিবিরের দুই বিজেপি সদস্যেরও। নিজের দলের একাংশের ক্ষোভ এবং বিরোধীদের এই অপ্রত্যাশিত সমর্থনে শেষ পর্যন্ত ধোপে টিকল না সভাধিপতির চেয়ার। অনাস্থা পাস হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই কোচবিহার জেলা পরিষদের সভাধিপতির পদটি এখন সম্পূর্ণ ফাঁকা হয়ে গেল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কোচবিহার জেলা পরিষদের অন্দরে যে অসন্তোষ দানা বাঁধছিল, আজকের এই তলবী সভার মাধ্যমে তার বিস্ফোরণ ঘটল। শাসক দলের অন্দরের এই ফাটল এবং বিরোধী শিবিরের কৌশলগত অবস্থান আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের এই জেলার রাজনীতিকে কোন দিকে চালিত করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। আপাতত প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হওয়া এই জেলা পরিষদের পরবর্তী বোর্ড কে গঠন করবে বা কার হাতে ক্ষমতা যাবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।

