বক্সিরহাট, ১৭ ফেব্রুয়ারী :
স্বামীর নামের বিভ্রান্তির জেরে প্রথম পর্যায়ের বাংলা আবাসের ঘরের টাকা ঢুকেছিল অন্যের একাউন্টে। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে অবশেষে সেই টাকা মেলে, জরাজীর্ণ পুরনো ঘর ভেঙে শুরু করেন পাকা ঘর নির্মাণের কাজ। কিন্তু ফের গ্যারাকল। প্রথম কিস্তির টাকায় অর্ধেক কাজ হয়েছে ঠিকই কিন্তু ছয় মাস কেটে গেলেও আর মিলছে না দ্বিতীয় কিস্তির টাকা। স্বভাবতই চরম সমস্যায় পড়েছেন তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের শালবাড়ি -১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাঁশরাজার বাসিন্দা মহামায়া দাস। আপাতত অসম্পূর্ণ ঘরে ত্রিপল টানিয়ে রাত্রিযাপনে বাধ্য হচ্ছেন। প্রশাসনিক জট না কাটলে আসন্ন ঝড়-বৃষ্টির মরশুমে কোথায় মাথা গুঁজবেন সেই চিন্তায় থৈ পাচ্ছেন না বছর আশির ওই মহিলা। যদিও বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে বিরোধীরা তৃণমূল পরিচালিত প্রশাসনকে তোপ দাগতে ছাড়েনি।
জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে আবাসের তালিকায় নাম আসে শালবাড়ির বাসিন্দা মৃত রাখাল দাসের। স্বামী মারা যাওয়ায় তাঁর স্ত্রী মহামায়া দাস তুফানগঞ্জ-২ সমষ্টি উন্নয়ন দপ্তরে আবাসের আবেদন জানান।
এরপর দুমাস কেটে গেলেও সমীক্ষার দল বাড়িতে না আসায় ফের ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হন মহামায়া। এরপরেই প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, মহামায়ার বদলে বাঁশরাজার অপর মৃত রাখাল দাসের স্ত্রী অঞ্জলি দাসের একাউন্টে ঢুকেছে তার আবাসের টাকা। এদিকে,
আবাসের তালিকায় নাম থাকার পরেও ঘরের টাকা না মেলায় তুফানগঞ্জ -২ বিডিও ও জেলাশাসককে লিখিতভাবে অভিযোগ জানান বছর ৮০ ওই উপভোক্তা মহামায়া দাস। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই তড়িঘড়ি টাকা ফেরত দিতে অঞ্জলি দাসকে নোটিশ করে ব্লক প্রশাসন। যদিও শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের তৎপরতায় প্রকৃত দাবিদারের একাউন্টে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা ঢুকেছিল। সেই দিয়েই পুরনো জরাজীর্ণ শোয়ার ঘরটি ভেঙে নতুন করে পাকা ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন তিনি।
কিন্তু অভিযোগ, ছয় মাস কেটে গেলেও দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা মেলেনি। একাধিকবার ব্লক প্রশাসন ও অতিরিক্ত জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা হয়নি বলে দাবি মহামায়ার। অর্থের অভাবে থমকে রয়েছে নির্মাণকাজ। বাধ্য হয়ে ত্রিপল টাঙিয়ে কোনওরকমে রাত্রি যাপন করতে হচ্ছে। সামনে ঝড়-বৃষ্টির মরশুম ঘনিয়ে আসায় দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।
মহামায়া দাসের কথায়, “তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও প্রথমে আমার টাকা অন্যের অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছিল। অনেক দৌড়ঝাঁপের পর প্রথম কিস্তির টাকা পাই। এখন দ্বিতীয় কিস্তির জন্য বারবার আবেদন করেও কোনও ফল পাচ্ছি না। অসম্পূর্ণ ঘর নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে। সামনে ঝড় বর্ষার দিন তখন কোথায় আশ্রয় নেব সেই চিন্তায় রয়েছি।

