শিলিগুড়ি, ২ জুলাই:
প্রযুক্তির অপব্যবহারকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে শিলিগুড়ির লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত টোটো চালকদের মধ্যে। অভিযোগ, একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে ব্লুটুথের মাধ্যমে টোটোর লিথিয়াম ব্যাটারির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। এরপর দূর থেকে ব্যাটারির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হচ্ছে, যার ফলে চলন্ত অবস্থাতেই হঠাৎ গাড়ি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন টোটো চালকরা। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে ব্যাটারিচালিত স্কুটি ও অন্যান্য ই-যানের ক্ষেত্রেও।
বুধবার শিলিগুড়িতে এমনই একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, একটি টোটো চলন্ত অবস্থায় আচমকাই বন্ধ হয়ে যায়। চালকের দাবি, গাড়িতে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেন। পরে সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। যদিও ওই যুবকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ টোটো চালকদের একাংশ শিলিগুড়ি থানায় যান এবং বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত টোটোর ক্ষেত্রে একই ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। হঠাৎ গাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চালক ও যাত্রীদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ব্যস্ত রাস্তায় এই ধরনের ঘটনা ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।
টোটো চালকদের দাবি, আধুনিক লিথিয়াম ব্যাটারিতে থাকা ব্লুটুথ বা স্মার্ট কানেক্টিভিটি ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যক্তিরা একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ব্যাটারির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছেন। এরপর দূর থেকেই ব্যাটারির কার্যক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ। এই ধরনের প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে অবিলম্বে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বিক্ষোভের পাশাপাশি চালকদের পক্ষ থেকে শিলিগুড়ি থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট ব্যাটারি প্রস্তুতকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, একটি বিদেশি মোবাইল অ্যাপের অপব্যবহারের কারণেই এই ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে তাঁদের ধারণা। সংস্থার দাবি, ব্যাটারির নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অবৈধভাবে ব্যবহার করা হলে এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রযুক্তিগত দিক থেকেও তদন্ত করা হচ্ছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে শিলিগুড়ি থানার পুলিশ। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, আটক যুবকের ভূমিকা, ব্যবহৃত মোবাইল অ্যাপের কার্যপদ্ধতি এবং এর সঙ্গে কোনও বড় চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে শিলিগুড়ির টোটো চালক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহণ ব্যবস্থায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই নজর সকলের।

