আলিপুরদুয়ার, ১ জুলাই:
সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অর্থ ব্যয় নিয়ে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির দাবিতে সরব হলেন হ্যামিল্টনগঞ্জ এলাকার একাংশের বাসিন্দারা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে লতাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বুধবার গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন তাঁরা। একইসঙ্গে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে সন্তোষজনক জবাব দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার হ্যামিল্টনগঞ্জ এলাকার বহু বাসিন্দা একত্রিত হয়ে লতাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখানে তাঁরা পঞ্চায়েত প্রধানের উদ্দেশে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে সরকারি প্রকল্পগুলির আর্থিক লেনদেন এবং বাস্তবায়ন সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান।
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বরাদ্দ সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, একাধিক ক্ষেত্রে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ না করেই সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। কোথাও কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে, আবার কোথাও প্রকল্প বাস্তবে শেষ না হলেও সরকারি নথিতে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে অর্থ তোলার অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রশাসনিকভাবে যাচাই করা হয়নি।
স্মারকলিপিতে বাসিন্দারা জানতে চেয়েছেন, চলতি অর্থবর্ষে গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে কোন কোন প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে, সেই অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, কোন প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে, কোনগুলি এখনও চলমান এবং প্রতিটি প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি কী অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি সমস্ত প্রকল্পের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করে স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবিও জানানো হয়েছে।
হ্যামিল্টনগঞ্জের বাসিন্দা রতন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সরকারি প্রকল্পের অর্থ জনগণের করের টাকা। সেই অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা জানার অধিকার সাধারণ মানুষের রয়েছে। তাই কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ নয়, বরং সরকারি অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই তাঁরা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, আগামী ১৪ দিনের মধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ যদি লিখিতভাবে সন্তোষজনক উত্তর না দেয় এবং প্রকল্পগুলির পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ না করে, তাহলে বৃহত্তর গণআন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনের উচ্চপর্যায় এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরেও বিষয়টি জানানো হবে বলে তিনি জানান।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে স্মারকলিপিতে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে লতাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলির সত্যতা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বাস্তব চিত্র জানতে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রয়েছে।

