শিলিগুড়ি, ১৪ জুলাই:
সপ্তাহখানেক আগেই শিলিগুড়ি বাজার পোস্ট অফিসে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার তদন্ত এখনও শেষ না হতেই সোমবার গভীর রাতে ফের পোস্ট অফিসের দরজা ভেঙে চুরির চেষ্টা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরপর দুটি ঘটনার জেরে পোস্ট অফিসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে আতঙ্কে রয়েছেন পোস্ট অফিসের কর্মীরাও।
জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ির মিলনপল্লী এলাকার টিএনটি কোয়ার্টারের মধ্যে অবস্থিত এই পোস্ট অফিসে প্রায় সাত থেকে দশ দিন আগে প্রথমবার চুরির ঘটনা ঘটে। সেই সময় দুষ্কৃতীরা অফিসে ঢুকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর শিলিগুড়ি থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
এরই মধ্যে সোমবার রাতে ফের একই পোস্ট অফিসকে নিশানা করে দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, পোস্ট অফিসের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করা হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত কী কী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। মঙ্গলবার সকালে কর্মীরা অফিসে এসে দরজার অবস্থা দেখে বিষয়টি জানতে পারেন। এরপরই খবর দেওয়া হয় শিলিগুড়ি থানায়।
খবর পেয়ে শিলিগুড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় খোঁজখবর শুরু করেছে। সাদা পোশাকের পুলিশও তদন্তে নেমেছে বলে জানা গিয়েছে।
পোস্ট অফিসের ইনচার্জ মৌসুমী সাহা বলেন, “কয়েকদিন আগেই আমাদের পোস্ট অফিসে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। তার মধ্যেই আবার দরজা ভেঙে চুরির চেষ্টা হয়েছে। এতে অফিসের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পুলিশও তদন্ত করছে এবং আমরা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের আশা করছি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মিলনপল্লীর টিএনটি কোয়ার্টার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই এই পোস্ট অফিসটি রয়েছে। কিন্তু কোয়ার্টারগুলির অধিকাংশই বর্তমানে ফাঁকা থাকায় সন্ধ্যার পর গোটা এলাকা প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই সমাজবিরোধীরা এলাকায় অবাধে ঘোরাফেরা করে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের দাবি, এই কারণেই বারবার সরকারি দপ্তরগুলিকে লক্ষ্য করে চুরি ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশ নিয়মিত টহল দিলেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সরকারি সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কর্মীদেরও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।
এদিকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পোস্ট অফিসে দ্রুত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে দুষ্কৃতীদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছে পুলিশ।
পরপর দুটি চুরি ও চুরির চেষ্টার ঘটনায় শিলিগুড়ি বাজার পোস্ট অফিসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে এলাকায় রাতের টহল বাড়ানো এবং সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পোস্ট অফিসের কর্মীরা।

