কোচবিহার, ২৫ জুন:
বেতন বৃদ্ধি, চাকরির স্থায়ীকরণ-সহ একাধিক দাবিকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার কোচবিহার জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের আয়ুষ শাখার চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা ডেপুটি সিএমওএইচ-৩-এর দপ্তরে ডেপুটেশন জমা দেন। দীর্ঘদিন ধরে কাজ করলেও পর্যাপ্ত পারিশ্রমিক ও চাকরির নিরাপত্তা না থাকায় কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
এদিন আয়ুষ শাখার কর্মীরা সংগঠিতভাবে ডেপুটি সিএমওএইচ-৩ দপ্তরে পৌঁছে নিজেদের পাঁচ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেন। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমানে পুরুষ কর্মীরা মাসিক মাত্র ৮ হাজার টাকা এবং মহিলা কর্মীরা ৫ হাজার টাকা ভাতা হিসেবে পান। বর্তমান বাজারদর ও ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির পরিস্থিতিতে এই সামান্য অর্থে সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে বলে দাবি তাঁদের।
আন্দোলনকারী কর্মীদের বক্তব্য, বহু বছর ধরে স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত থেকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলেও তাঁদের আর্থিক অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। একই ধরনের কাজ করেও অন্যান্য কর্মীদের তুলনায় অনেক কম পারিশ্রমিক পাওয়ায় তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ। সেই কারণে অবিলম্বে বেতন বৃদ্ধি, চাকরির স্থায়ীকরণ, পরিষেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান-সহ একাধিক দাবিতে তাঁরা সরব হয়েছেন।
কর্মীদের আরও দাবি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। কিন্তু চুক্তিভিত্তিক কর্মী হওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। তাই তাঁদের স্থায়ী কর্মীর মর্যাদা দেওয়ার পাশাপাশি উপযুক্ত বেতন কাঠামো চালুর দাবি জানানো হয়েছে।
আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁদের দাবিগুলি দ্রুত বিবেচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা। এরই অংশ হিসেবে জেলা শাসক এবং মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (সিএমওএইচ)-এর দপ্তরেও দাবিপত্র জমা দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
আয়ুষ কর্মীদের এই আন্দোলনকে ঘিরে স্বাস্থ্য মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই দাবিগুলির বিষয়ে কী পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মী ও জেলার স্বাস্থ্যকর্মী মহলের।

