জলপাইগুড়ি ,২৩ অক্টোবর
সামনেই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। আর পুজোর আগে মাটির সরা তৈরিতে এখন ব্যস্ত জলপাইগুড়ির ধাপগঞ্জ এলাকার প্রবীণ মৃৎশিল্পী সহদেব পাল। দিনরাত পরিশ্রম করে তৈরি করছেন মাটির সরা, পাশাপাশি তৈরি করছেন ছোটখাটো প্রতিমাও। তবে যতই পুজোর দিন এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে চিন্তা। কারণ এবার বাজার কেমন থাকবে, তা নিয়েই অনিশ্চয়তায় এই শিল্পী ও তাঁর পরিবার।
সহদেব পাল জানান, একসময় লক্ষ্মীপুজোকে ঘিরে মাটির সরা ও প্রতিমার যথেষ্ট চাহিদা ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই বাজার অনেকটাই কমে গিয়েছে। তার উপর মালদা, উত্তর দিনাজপুর, কৃষ্ণনগর-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে তৈরি সরা ও ছোট প্রতিমা বাজারে আসায় স্থানীয় মৃৎশিল্পীদের বিক্রিতে প্রভাব পড়ছে। ফলে আগের মতো ব্যবসা আর হচ্ছে না বলেই দাবি তাঁর।
বাজারের এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বংশপরম্পরায় চলে আসা মৃৎশিল্পের কাজ ছাড়তে পারেননি সহদেব পাল। লাভ হোক কিংবা লোকসান, মাটি দিয়ে তৈরি সামগ্রীই তাঁর পরিবারের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম ভরসা। তাই চাহিদা নিয়ে সংশয় থাকলেও কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছেন না তিনি।
একদিকে উৎসবকে ঘিরে ক্রেতাদের মধ্যে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি, অন্যদিকে বাইরের শিল্পীদের তৈরি সামগ্রীর সঙ্গে বাজারে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা। উৎসবের মরশুম তাঁদের কাছে বাড়তি আয়ের অন্যতম সুযোগ হলেও বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।
মাটির সরা তৈরির চাকার ঘূর্ণনের সঙ্গে তাই একদিকে যেমন পুজোর প্রস্তুতি এগিয়ে চলেছে, তেমনই ধাপগঞ্জের এই প্রবীণ শিল্পীর মনে ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই চিন্তা—এবার কি ফিরবে মাটির সরার সেই পুরনো বাজার?

