তুফানগঞ্জ, ২৫ আগস্ট
কোদাল-শাবলের পর এবার উদ্ধার ইট! জঙ্গলে মিলল মৃতের খোয়া যাওয়া মোবাইল
রামপুরে জোড়া খুনের তদন্তে আরও একধাপ এগোল পুলিশ। অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী উদ্ধার করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। খুনে ব্যবহৃত কোদাল ও শাবল উদ্ধারের পর এবার পুকুর থেকে উদ্ধার হল একটি ইট। পাশাপাশি অভিযুক্তের বাড়ি থেকে মিলেছে কাঠের বাটাম এবং তাঁর পরনে থাকা রক্তমাখা টি-শার্ট। শুধু তাই নয়, পাশের জঙ্গল থেকেও উদ্ধার হয়েছে মৃত সুনীল বিশ্বাসের খোয়া যাওয়া মোবাইল ফোন।
পুকুরে এবার কী মিলল?
গত বুধবার ধৃতকে সঙ্গে নিয়ে পুকুরে অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। সেখান থেকেই উদ্ধার হয়েছিল খুনে ব্যবহৃত কোদাল ও শাবল। শনিবার ফের ধৃতকে সঙ্গে নিয়ে একইভাবে তল্লাশি চালানো হয়। এবার পুকুর থেকে উদ্ধার হয় একটি ইট।
এর পাশাপাশি অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি কাঠের বাটাম এবং তাঁর পরনে থাকা রক্তমাখা টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
তবে এই সামগ্রীগুলিই কি জোড়া খুনে ব্যবহৃত হয়েছিল?
উদ্ধার হওয়া প্রতিটি সামগ্রীর সঙ্গে খুনের ঘটনার যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। ফরেন্সিক রিপোর্ট হাতে আসার পরই তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।
জঙ্গলে কেন ফেলে দেওয়া হয়েছিল মোবাইল?
তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পেয়েছে পুলিশ। পাশের জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয়েছে মৃত সুনীল বিশ্বাসের খোয়া যাওয়া মোবাইল ফোন।
মোবাইলটি জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল কেন? খুনের পর প্রমাণ লোপাটের কোনও চেষ্টা করা হয়েছিল কি না? নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ?
মোবাইল উদ্ধারের ঘটনাটিকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। ফোনটি থেকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে পুলিশের।
ঠিক কী হয়েছিল দক্ষিণ রামপুরে?
প্রসঙ্গত, গত রবিবার ভোরে দক্ষিণ রামপুরে নিজের শোবার ঘর থেকে সুনীল বিশ্বাসের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। এরপর বাড়ি থেকে প্রায় ২০ মিটার দূরে একটি ঝোপের মধ্যে উদ্ধার হয় তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী জানকী বিশ্বাসের দেহ।
ঘটনার তদন্তে নেমে সুনীল বিশ্বাসের শ্যালিকার ছেলে বিক্রমজিৎ কলিতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালত তাঁকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
এরপর ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই একের পর এক সামগ্রী উদ্ধার করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অনুমান, উদ্ধার হওয়া সামগ্রী এবং ফরেন্সিক পরীক্ষার রিপোর্ট জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
এখন পুলিশের নজর মূলত উদ্ধার হওয়া সামগ্রী, মোবাইল ফোন এবং ফরেন্সিক রিপোর্টের দিকে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন সূত্র। তবে দক্ষিণ রামপুরের জোড়া খুনের নেপথ্যে আসল কারণ কী, আর এই হত্যাকাণ্ডে ঠিক কীভাবে ঘটনাগুলি ঘটেছিল—তার উত্তর এখনও অধরা।

