আলিপুরদুয়ার, ২৫ আগস্ট
৬ কেজির বেশি গাঁজা, প্রায় ৫ লক্ষ নগদ! এত টাকা এল কোথা থেকে?
রাতের অন্ধকারে গোপন সূত্রের খবর পেয়ে বাড়িতে হানা দিয়েছিল পুলিশ। তল্লাশি চালাতেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর সামগ্রী উদ্ধার। ফেলে রাখা প্লাস্টিকের বস্তা সরিয়ে মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এল প্লাস্টিকে মোড়ানো বিপুল পরিমাণ গাঁজা। ঘরের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে মিলল রাশি রাশি নগদ টাকা।
ঘটনাটি আলিপুরদুয়ার থানার অন্তর্গত আলিপুরদুয়ার পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সূর্যনগর এলাকার।
বস্তা সরাতেই সন্দেহ… তারপর মাটি খুঁড়তেই?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাত প্রায় ৮টা নাগাদ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে একটি বাড়িতে আচমকা অভিযান চালায় আলিপুরদুয়ার থানার পুলিশ। ওই বাড়িতে ভাই-বোনের সংসার বলে জানা গিয়েছে।
অভিযানের সময় বাড়িতে ছিলেন না অভিযুক্ত গাঁজা ব্যবসায়ী বলে সন্দেহ করা বাবন বল। বাড়িতে ছিলেন তাঁর অবিবাহিতা বোন। এরপর মহিলা পুলিশকর্মীদের নিয়ে শুরু হয় তল্লাশি।
বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পাশাপাশি ফেলে রাখা প্লাস্টিকের বস্তা সরাতেই নজরে আসে মাটি। সেই এবড়ো-খেবড়ো মাটি সরাতেই প্লাস্টিকে মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার হয় প্রচুর পরিমাণ গাঁজা বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
শুধু গাঁজা নয়, ঘরের ভিতরেই লুকানো ছিল টাকা!
তল্লাশি চালিয়ে পুলিশের নজরে আসে আরও এক চাঞ্চল্যকর বিষয়। ঘরের বিভিন্ন জায়গায় কাপড়ের তলায়, বস্তা, ব্যাগ এবং ক্যারি ব্যাগের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা ছিল বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা।
৫০, ১০০, ২০০ ও ৫০০ টাকার অজস্র নোটের পাশাপাশি পাওয়া যায় ৫ ও ১০ টাকার কয়েনও।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সব মিলিয়ে উদ্ধার হয়েছে ৬ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা এবং বিভিন্ন নোট ও কয়েন মিলিয়ে মোট ৪ লক্ষ ৮৬ হাজার ৬০৪ টাকা নগদ।
বাড়ির মহিলাকে আটক, কিন্তু অভিযুক্ত দাদা কোথায়?
অভিযানের সময় বাড়িতে থাকা মহিলাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তবে অভিযুক্ত গাঁজা ব্যবসায়ী বলে সন্দেহ করা বাবন বল পুলিশের অভিযানের আগেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
বর্তমানে তিনি পলাতক। তাঁর সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে আলিপুরদুয়ার থানার পুলিশ।
গাঁজার আড়ালে কি আরও বড় কারবার?
বিপুল পরিমাণ গাঁজা এবং প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধারের পর তদন্তকারীদের নজর এখন আরও গভীরে। পুলিশের অনুমান, শুধুমাত্র গাঁজা ব্যবসার সঙ্গেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।
এর পাশাপাশি ব্রাউন সুগারের কারবারের সঙ্গেও অভিযুক্তের যোগ রয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে এই মুহূর্তে সেই অভিযোগ নিশ্চিত নয় এবং তদন্তের পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
মাটির নীচে গাঁজা থেকে শুরু করে ঘরের বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে রাখা বিপুল নগদ টাকা—সব মিলিয়ে সূর্যনগরের এই বাড়িতে কী ধরনের কারবার চলছিল, এখন সেই উত্তরই খুঁজছে পুলিশ।
#Alipurduar #SuryaNagar #GanjaSeized #DrugCase #PoliceRaid #CashSeized #DrugSmuggling #WestBengalNews #CrimeNews #BreakingNews

