২২/০৫/২০২৫
ওয়েব ডেস্ক:
বাংলাদেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই এবার দৃঢ় বার্তা দিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন—আগাম জাতীয় নির্বাচন করতে হবে, সেনাবাহিনীর কাজে হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না, এবং নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বড় সিদ্ধান্তে সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করতেই হবে। বুধবার ঢাকার সেনাপ্রাঙ্গণে ‘দরবার’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে সেনাপ্রধান এই বার্তা দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর প্রায় সব পদে থাকা উচ্চপদস্থ অফিসাররা, যুদ্ধপোশাকে। এই ‘শক্তি প্রদর্শন’ আসলে ছিল একটি কড়া রাজনৈতিক ইঙ্গিত। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহিংস অপসারণের পর সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গঠিত হয় এই অন্তর্বর্তী সরকার। তবে জেনারেল ওয়াকার সরাসরি ক্ষমতা গ্রহণ করেননি। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, তিনি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে চলেন—বাংলাদেশে অতীতে যারা সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা নিয়েছেন, তাঁদের পরিণতি হয়েছে করুণ। বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকারের তিনটি লক্ষ্য স্পষ্ট। এই লক্ষ্যগুলো হল গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সেনাবাহিনীর পেশাদার ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখা। এই কারণেই তিনি চাইছেন আগাম নির্বাচন হোক, সেনাবাহিনী আবার ব্যারাকে ফিরুক, এবং জনগণের সরকার গঠন হোক। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস একদিকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নির্বাচন কারচুপির অভিযোগ তুলছেন, অথচ নিজে কোনও নির্বাচিত প্রতিনিধি না হয়েও দেশের ক্ষমতা ধরে রাখতে চাইছেন—এই দ্বৈত ভূমিকার বিরুদ্ধেই মূলত অবস্থান নিচ্ছেন সেনাপ্রধান। সেনা মহলের দাবি, ইউনূস নাকি বিদেশি শক্তির সঙ্গে মিলে রাস্তায় অস্থিরতা তৈরি করে সেনাপ্রধানকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষছেন। তাই মঙ্গলবারের কড়া বার্তা, যেখানে বিমান ও নৌবাহিনীর প্রধানদেরও পাশে রাখা হয়, তা ছিল বহুমাত্রিক বার্তা—সেনাবাহিনী ঐক্যবদ্ধ, তারা আর “অন্ধকারে থাকবে না”, এবং দেশের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও গোপন সমঝোতা বরদাস্ত করবে না।

