শিলিগুড়ি ৬ জুন
শিলিগুড়ির নামী শপিংমলে ফের পৌরনিগমের অভিযান, হাইকোর্টের নির্দেশে ভাঙা হল অবৈধ নির্মাণ
শিলিগুড়ির একটি নামী শপিংমলে শনিবার ফের অভিযান চালাল পৌরনিগম। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শপিংমলের একটি অংশের অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়। অভিযানের সময় এলাকায় ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ আধিকারিক, পৌরনিগমের কর্মী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও। তবে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু হতেই শপিংমল চত্বরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং একাংশ ব্যবসায়ী প্রশাসনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হন।
জানা গিয়েছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে এই শপিংমলকে কেন্দ্র করে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। চার বছর আগে শপিংমলের সেক্রেটারি পদে থাকা আনন্দ কুমার বানসাল কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ জানান যে, শপিংমলে পর্যাপ্ত ফায়ার লাইসেন্স নেই, অবৈধভাবে লিফট নির্মাণ করা হয়েছে এবং একাধিক অংশে বেআইনি নির্মাণ ও নানা ধরনের অনিয়ম চলছে। এরপরে ই সেক্রেটারি পদ থেকে ইস্তফা দেন ওই ব্যক্তি। পরে সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে এবং প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেয়। এবং তারপর প্রশাসনের তরফে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছিল ওই শপিংমলে। সেই সময় অবৈধভাবে নির্মিত লিফট ভেঙে ফেলার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি দোকানের বেআইনি অংশও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ অনুসারে চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই শনিবার আবারও শপিংমলে অভিযান চালানো হয় এবং চিহ্নিত অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করে পৌরনিগম। তবে এদিনের অভিযানে নতুন বিতর্কেরও সূত্রপাত হয়েছে। প্রশাসন যখন ভাঙার কাজ চালাচ্ছিল, তখন শপিংমলের একাংশ ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁদের অভিযোগ, যিনি হাইকোর্টে মামলা করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, টাকা না দিলে আদালতে মামলা করার হুমকি দেওয়া হয় এবং সেই কারণেই বারবার তাঁদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিবাদী ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ, তাঁরা যে বিল্ডারের কাছ থেকে দোকানের প্লট কিনেছিলেন, সেই বিল্ডারই তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। সমস্ত নিয়মকানুন মেনে দোকান বিক্রি করা হয়েছে বলে তাঁদের জানানো হলেও পরবর্তীতে একের পর এক ত্রুটি ও বেআইনি নির্মাণের বিষয় সামনে আসে। অভিযোগ, দোকান বিক্রির পর বিল্ডার কার্যত দায় এড়িয়ে চলে গিয়েছেন, অথচ এখন সেই খামতির খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ ব্যবসায়ীদের। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারী ব্যক্তি নাকি বিভিন্ন বিল্ডিং ও শপিং কমপ্লেক্সে থাকা অবৈধ নির্মাণের তথ্য সংগ্রহ করে নিজের কাছে রাখেন। পরে সেখানে ব্যবসা শুরু হলে সেই তথ্যকে হাতিয়ার করে ব্যবসায়ীদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। তাঁদের অভিযোগ, মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন সময় আদালতে মামলা করা হয় এবং প্রশাসনিক অভিযান পরিচালনার পরিবেশ তৈরি করা হয়। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনও প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
অন্যদিকে, পৌরনিগমের দাবি, আদালতের নির্দেশ এবং আইন অনুযায়ী চিহ্নিত অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ফলে শিলিগুড়ির এই বহুলচর্চিত শপিংমলকে ঘিরে আইনি লড়াই এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ—দুইয়েরই জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একদিকে আদালতের নির্দেশে অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদের কাজ চলছে, অন্যদিকে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা বিষয়টি। আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে শিলিগুড়িবাসীর।

