শিলিগুড়ি, ১৫ জুন:
শিলিগুড়িতে অবৈধ নির্মাণ ও সরকারি জমি দখলের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করল পৌর নিগম। সোমবার সকালে শহরের মাল্লাগুড়ি এলাকায় একটি বেসরকারি হোটেলের অংশ ভেঙে ফেলা হয় পৌরসভার উদ্যোগে। অভিযোগ, হোটেলের পিছনের একটি অংশ উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা-র সরকারি জমির মধ্যে বেআইনিভাবে প্রবেশ করেছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ভাঙার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
পৌর নিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় তিন মাস আগে সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষকে অবৈধ দখল সরিয়ে নেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে হোটেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া না হওয়ায় প্রশাসন শেষ পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই ভাঙার সিদ্ধান্ত কার্যকর করে। সোমবার সকাল থেকে পৌরসভার আধিকারিক, কর্মী এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিয়ে অভিযান শুরু হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকায় নজরদারির ব্যবস্থাও করা হয়।
তবে এই অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হোটেলের মালিক মুকেশ পোদ্দার। তাঁর দাবি, পৌর নিগম যে অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে তা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, মাত্র এক ইঞ্চি জমি দখলের অভিযোগ তুলে যে ভাঙচুর করা হয়েছে, তাতে ভবনের অনেক বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে ভবনের গুরুত্বপূর্ণ পিলার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গোটা হোটেলের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
মুকেশ পোদ্দারের অভিযোগ, অভিযানের আগে তাঁকে নতুন করে কোনও নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং হঠাৎ করেই পৌরসভার কর্মীরা এসে ভাঙার কাজ শুরু করে দেন। তাঁর বক্তব্য, এই হোটেলই তাঁর পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। ফলে এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু ব্যবসার ক্ষতিই করেনি, পরিবারের ভবিষ্যৎকেও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন এবং খুব শীঘ্রই আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
শুধু তাই নয়, পৌর নিগমের পদক্ষেপের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, একই এলাকার পাশের আরও একটি বেসরকারি হোটেলের অংশও নির্ধারিত সীমানার বাইরে নির্মিত হয়েছে। কিন্তু সেখানে কোনও ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে প্রশাসন বেছে বেছে নির্দিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাল্লাগুড়ি এলাকায় চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে প্রশাসন সরকারি জমি রক্ষা ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিতে চাইছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হোটেল মালিক বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে গড়ায় এবং আদালতে বিষয়টি কতদূর পৌঁছায়, সেদিকেই নজর থাকবে শহরবাসীর।

