কোচবিহার, ১৪ জুলাই:
দীর্ঘদিনের বকেয়া পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য, চাকরির অনিশ্চয়তা সহ একাধিক অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামলেন আনন্দধারা (NRLM) প্রকল্পের আওতায় কর্মরত CSP (Community Service Provider) কর্মীরা। মঙ্গলবার AIUTUC জেলা কমিটির নেতৃত্বে কোচবিহারে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। পরে একটি মিছিল করে জেলা শাসকের দপ্তরে পৌঁছে নিজেদের ১৫ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেন কর্মীরা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আনন্দধারা প্রকল্পের অধীনে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা প্রদান করে আসছেন। সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থেকে গ্রামীণ এলাকার মানুষকে বিভিন্ন পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া, তথ্য প্রদান এবং প্রশাসনিক কাজে সহযোগিতা করার মতো দায়িত্ব পালন করছেন তাঁরা। কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার পরও তাঁদের ন্যায্য পারিশ্রমিক, চাকরির নিশ্চয়তা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ।
CSP কর্মীদের দাবি, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস থেকে নতুন ম্যানুয়াল অনুযায়ী তাঁরা কাজ করে আসছেন। কিন্তু সেই অনুযায়ী কাজ করার পরও বহু কর্মী এখনও পর্যন্ত তাঁদের প্রাপ্য পারিশ্রমিক পাননি। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া টাকা না পাওয়ায় আর্থিক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
এর পাশাপাশি কর্মীরা বেতন কাঠামোর অসামঞ্জস্য নিয়েও সরব হন। তাঁদের অভিযোগ, একই ধরনের কাজ করলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে। এছাড়াও কোনও নির্দিষ্ট নিয়োগপত্র, স্থায়ী চাকরির নিশ্চয়তা বা সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তাঁরা।
আন্দোলনকারীদের আরও অভিযোগ, কোনও রকম আলোচনা বা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই একতরফাভাবে কিছু কর্মীকে কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, যেসব কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে, তাঁদের অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে এবং কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
এদিন জেলা শাসকের দপ্তরে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে CSP কর্মীরা মোট ১৫ দফা দাবি তুলে ধরেন। তাঁদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে—
- অবিলম্বে সমস্ত বকেয়া পারিশ্রমিক প্রদান,
- প্রতি মাসে নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নিয়মিত বেতন প্রদান,
- ন্যূনতম ২৫ হাজার টাকা মাসিক বেতন নির্ধারণ,
- কর্মীদের স্থায়ী নিয়োগের ব্যবস্থা,
- ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের পুনর্বহাল,
- প্রত্যেক কর্মীকে পরিচয়পত্র প্রদান,
- অতিরিক্ত কাজের জন্য অতিরিক্ত পারিশ্রমিক প্রদান,
- ভবিষ্যতের জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
বিক্ষোভকারীরা জানান, সরকারি প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু কাজের তুলনায় পারিশ্রমিক কম এবং চাকরির নিশ্চয়তা না থাকায় তাঁরা সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। তাঁদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবেন তাঁরা।
AIUTUC জেলা কমিটির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, CSP কর্মীদের সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কর্মীদের ন্যায্য দাবি পূরণ এবং তাঁদের কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
এদিনের ডেপুটেশন গ্রহণের পর প্রশাসনের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখন CSP কর্মীদের দাবি পূরণে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

