শিলিগুড়ি, ৮ জুন:
সালুগাড়ার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার মুখে পড়লেন এক জওয়ান। তবে সৌভাগ্যবশত বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনায় তিনি আহত হলেও তাঁর আঘাত গুরুতর নয় বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার সকালে ওই জওয়ান নিউজলপাইগুড়ি থেকে সালুগাড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে উড়ালপুলের ওপর তাঁর গাড়ি আচমকাই বিকল হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে তিনি গাড়িটি রাস্তার ধারে দাঁড় করিয়ে নিজেই মেরামতির কাজ শুরু করেন।
ঠিক সেই সময় নিউজলপাইগুড়ির দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিছন দিক থেকে তাঁকে ধাক্কা মারে। আচমকা সংঘর্ষে জওয়ান মাটিতে পড়ে গিয়ে আহত হন। স্থানীয় মানুষ ও পথচলতি গাড়ির যাত্রীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনাগ্রস্ত দুই গাড়িকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় জওয়ান গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি সারানোর কাজ করছিলেন।
অভিযুক্ত গাড়ির চালক মানিক বর্মন, যিনি দেশবন্ধুপাড়া এলাকার বাসিন্দা, ঘটনার পর নিজের মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “রবিবার আমার ছেলে পাহাড়ে গিয়ে আহত হয়েছে। সেই বিষয়টি নিয়ে আমি খুবই চিন্তিত ছিলাম। এছাড়া আর্থিক সমস্যার চাপও ছিল। আমার চালকরাও বারবার ফোন করে টাকার জন্য তাগাদা দিচ্ছিল। এই সব দুশ্চিন্তার মধ্যেই হঠাৎ করে দুর্ঘটনাটি ঘটে যায়।”
যদিও চালকের এই বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে, তবুও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। গাড়ির গতি, চালকের মনোযোগের ঘাটতি কিংবা অন্য কোনও কারণ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আহত জওয়ানের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তিনি রয়েছেন এবং আপাতত আশঙ্কার কোনও কারণ নেই। ঘটনায় এলাকায় কিছু সময়ের জন্য চাঞ্চল্য ছড়ালেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

