মাথাভাঙ্গা, ২৪ জুন:
রান্নার গ্যাস বুকিং করার পরও দীর্ঘদিন সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মাথাভাঙ্গার একাংশ উপভোক্তা। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই সমস্যার প্রতিবাদে বুধবার গ্যাস অফিসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তাঁরা। পরে একটি প্রতিনিধি দল মহকুমা শাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি জমা দিয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধানের দাবি জানায়।
অভিযোগ, গ্যাস বুকিং করার পর গ্রাহকদের মোবাইলে ডি.এ.সি (Delivery Authentication Code) নম্বর পৌঁছে গেলেও বাস্তবে সিলিন্ডার হাতে পাচ্ছেন না অনেকেই। দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও গ্যাস সরবরাহ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। উপভোক্তাদের দাবি, বহু ক্ষেত্রে গ্যাস অফিস বা ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে যোগাযোগ করেও সন্তোষজনক কোনও উত্তর মিলছে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে অনেককে ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবুও দিনের শেষে খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। এর ফলে নিত্যদিনের রান্নাবান্না থেকে শুরু করে সংসারের বিভিন্ন কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, গৃহিণী এবং ছোট শিশুদের নিয়ে থাকা পরিবারগুলিকে সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, এটি কোনও নতুন সমস্যা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়মিত গ্যাস সরবরাহের কারণে ভোগান্তি বাড়ছে। বারবার অভিযোগ জানানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়েই রাস্তায় নামতে হয়েছে। তাঁরা বলেন, গ্যাস বুকিংয়ের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিলিন্ডার পাওয়া গ্রাহকদের অধিকার, কিন্তু সেই পরিষেবা থেকে তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে বুধবার গ্যাস অফিসের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিয়মিততা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পরে একটি প্রতিনিধি দল মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেয়। সেখানে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা, বকেয়া বুকিংগুলির নিষ্পত্তি করা এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন সমস্যা না হয় তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
উপভোক্তাদের একটাই আবেদন, দ্রুত গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ স্বাভাবিক করা হোক এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবায় যাতে আর কোনও ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সেই বিষয়টি প্রশাসন গুরুত্ব সহকারে দেখুক। এখন প্রশাসন ও গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার হাজার হাজার গ্রাহক।

