ফুলবাড়ি, ২২ জুন:
বাড়ির মালিক দীর্ঘদিন বাইরে থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটল ফুলবাড়ি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের চ্যাংড়াবান্ধা গ্রামে। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। চোরেরা বাড়ির পিছনের দিক দিয়ে প্রবেশ করে নগদ টাকা ও মূল্যবান কাসার সামগ্রী নিয়ে চম্পট দিয়েছে বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়ির মালিক কিরণবালা রায় প্রায় দেড় মাস আগে অসুস্থ বাবার দেখাশোনার জন্য বাড়ির বাইরে যান। সেই সময় থেকে বাড়িটি কার্যত ফাঁকাই ছিল। গত শনিবার তাঁর স্বামী শিলিগুড়ি থেকে বাড়িতে এসে কিছু সময় কাটিয়ে ফের চলে যান। তবে রবিবার সন্ধ্যায় পুনরায় বাড়িতে ফিরে মূল দরজা খোলার পরই চোখে পড়ে অস্বাভাবিক দৃশ্য। ঘরের ভিতরে বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এবং একাধিক আলমারি ও বাক্স খোলা অবস্থায় পড়ে আছে। তখনই তাঁদের সন্দেহ হয় যে বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে।
পরবর্তীতে বাড়ির বিভিন্ন অংশ খতিয়ে দেখে জানা যায়, দুষ্কৃতীরা বাড়ির পিছনের দিকের টিন কেটে ভিতরে প্রবেশ করেছে। শুধু তাই নয়, ঘরের দরজার তালাও ভেঙে ফেলা হয়েছিল। এরপর ঘরের প্রতিটি কোণ তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালিয়ে মূল্যবান সামগ্রী খুঁজে বের করে নিয়ে যায় চোরেরা।
বাড়ির মালিক কিরণবালা রায় জানান, তাঁর বিয়ের সময় পাওয়া বেশ কিছু মূল্যবান কাসার বাসনপত্র, যা পরিবারের কাছে আবেগের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেগুলি চুরি হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি ঘরে রাখা নগদ টাকাও নিয়ে পালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। দীর্ঘদিনের সঞ্চয় এবং স্মৃতিবিজড়িত সামগ্রী হারিয়ে তাঁরা গভীর উদ্বেগ ও হতাশার মধ্যে রয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ বাড়ির বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। আশপাশের এলাকায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চুরির ঘটনায় কারা জড়িত এবং ঠিক কত টাকার সম্পত্তি খোয়া গিয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে চুরি ও অসামাজিক কার্যকলাপের ঘটনা বেড়েছে। ফলে রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে। এই ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যেও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পুলিশ দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের গ্রেপ্তার করবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

