শিলিগুড়ি, ২২ জুলাই:
সিকিমের নামচি জেলায় নির্মীয়মাণ টানেলে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২০। দুর্ঘটনার প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী দল টানেলের ভিতর থেকে আরও ৭টি মৃতদেহের অবস্থান শনাক্ত করেছে। এর ফলে এই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০-তে পৌঁছেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নামচি জেলার পুলিশ সুপার সোনম ডোলমা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর প্রথম দফায় উদ্ধারকারী দল টানেলের ভিতর থেকে ১৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল। এরপর রাতভর এবং বুধবারও টানা উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর আরও ৭টি মৃতদেহের অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ হলে মৃতদেহগুলি টানেল থেকে বাইরে নিয়ে আসা হবে।
দুর্ঘটনার পর থেকেই জাতীয় ও রাজ্য স্তরের বিভিন্ন উদ্ধারকারী সংস্থা, পুলিশ, প্রশাসন এবং প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বড় আকারের উদ্ধার অভিযান চলছে। টানেলের ভিতরের প্রতিকূল পরিস্থিতি, ধ্বংসস্তূপ এবং সীমিত জায়গার কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চালাতে হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতির পাশাপাশি বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টানেলের ভিতরে এখনও নিবিড় তল্লাশি চলছে। কোনও ব্যক্তি আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি অংশ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে মৃতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের কাজও চলছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। নির্মাণকাজ চলাকালীন কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না এবং কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর তদন্তে আরও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগও বাড়ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত টানেলের ভিতরে তল্লাশি অব্যাহত থাকবে এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

