নিউজ ডেস্ক- ONAIR NOW ১৭.০৪.২৫
অনূঢ়াবস্থা ভঙ্গ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার তাঁর নিউ টাউনের বাড়িতেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা প্রাক্তন সাংসদ এবং প্রাক্তন বিধায়ক দিলীপের। পাত্রী রিঙ্কু মজুমদার। বিজেপি করার সূত্রেই আলাপ দু’জনের।
বৃহস্পতিবারেই দিলীপের আসন্ন বিবাহের বিষয়টি জানাজানি হতে শুরু করেছে। সরাসরি তাঁকে প্রশ্ন করেছিল একটি সংবাদমাধ্যম। দিলীপ তাঁর অননুকরণীয় ভঙ্গিতে বলেন, ‘‘কেন, আমি কি বিয়ে করতে পারি না নাকি? বিয়ে করা কি অপরাধ নাকি?’’ ওই সংবাদমাধ্যমকে দিলীপ ‘হ্যাঁ-না’ কিছুই বলেননি ঠিকই। যদিও ওই বিষয়ে দিলীপ ঘোষ কিছু বলতে চাননি। তবে দিলীপের ঘনিষ্টদের থেকে জানা গেছে যে, বরাবরের মতোই তিনি একটি ‘সাহসী’ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শুক্রবার দিলীপের বাড়িতে অত্যন্ত ঘরোয়া এক অনুষ্ঠানে দিলীপ-রিঙ্কুর চারহাত এক হবে। কারণ, দিলীপ আড়ম্বরে বিশ্বাস করেন না। তাই আমন্ত্রিতের সংখ্যাও খুব বেশি নয়। মূলত দিলীপ এবং রিঙ্কুর নিকটজনেরাই আমন্ত্রিত। রিঙ্কু বিবাহবিচ্ছিন্না। গৃহবধূ। এক পুত্রের জননী। তাঁর ছেলে সেক্টর ফাইভে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত। ঘটনাচক্রে, ইডেনের বক্সে রিঙ্কুর পুত্রও ছিলেন ৩ এপ্রিল।
সূত্রের খবর, তাঁর মা চাইছিলেন, দিলীপ বিবাহ করে সংসারী হোন। তা হলে তিনি পুত্রবধূর সঙ্গে খানিকটা সময় কাটাতে পারেন। দিলীপের মা তাঁর কাছেই থাকেন। এবং তাঁর কাছেই থাকবেন। কিন্তু দিলীপের জীবন রাজনীতিময়। আগামী বিধানসভা ভোটেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে। বিজেপি তাঁকে আবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করতে পারে। প্রচারে তো তাঁকে প্রয়োজন হবে বটেই। ফলে তাঁকে গোটা রাজ্য ঘুরে বেড়াতে হবে। সে ক্ষেত্রে তাঁর বৃদ্ধা মায়ের দেখাশোনা করা এবং তাঁকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য পরমাত্মীয় থাকাটা জরুরি। পাশাপাশি, দিলীপ-জননী উদ্বিগ্ন তাঁর অবর্তমানে পুত্র ‘নাড়ু’র দেখভাল কে করবেন, তা নিয়েও। দিলীপ গত বছর ষাট পেরিয়েছেন।
বিবাহের প্রস্তাবে দিলীপ প্রথমে রাজি হননি রাজনীতির কারণেই। তাঁর ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য, দিলীপ আশা করছিলেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে আবার রাজ্য বিজেপির সভাপতির পদে ফেরানো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাঁর দায়িত্ব আরও বাড়বে। বাড়বে ব্যস্ততাও। কিন্তু দিলীপের হিতৈষীরা তাঁকে বোঝান, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁকে রাজ্য সভাপতি করবেন, তেমন আশা কার্যত নেই। তাঁরা চাইছেন ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোট পর্যন্ত ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রেখে দিতে। সেটা আড়াই-তিন মাস আগের ঘটনা। শোনা যাচ্ছে, তার পরে নিমরাজি হয়েছিলেন দিলীপ। শেষে ‘পাকা কথা’ নাকি হয় ওই ইডেনের বক্সে কেকেআর-সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদ ম্যাচের ফাঁকে।
‘চিরকুমার’ দিলীপ যে তাঁর কৌমার্য ভঙ্গ করতে চলেছেন কি ? এই নিয়ে রাজনীতি মহল ভরে গিয়েছে বহু প্রশ্নে।

