নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার:
রাজ্য সরকারের ঘোষিত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পকে কেন্দ্র করে কোচবিহারে ব্যাপক উৎসাহের ছবি ধরা পড়ল। সোমবার থেকে প্রকল্পের আবেদনপত্র বিতরণ এবং জমা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতেই কোচবিহার সদর মহকুমা শাসক দপ্তরে ভিড় জমাতে দেখা যায় অসংখ্য মহিলাকে। সকাল থেকেই দপ্তর চত্বরে দীর্ঘ লাইনের ছবি নজরে আসে। আবেদনপত্র সংগ্রহ এবং জমা দেওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে অনেককেই।
প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার আশায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মহিলারা সদর মহকুমা শাসক দপ্তরে পৌঁছান। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বহু মহিলার কোলে ছিল ছোট শিশু। প্রবল গরম ও ভিড়ের মধ্যেও তাঁরা ধৈর্য ধরে নিজেদের পালার অপেক্ষা করেছেন। প্রকল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ কতটা, সেই চিত্রই যেন স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে দপ্তর চত্বরে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদনপত্র অনলাইন এবং অফলাইন—দুই মাধ্যমেই সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে অনেকেই সরাসরি দপ্তরে এসে আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ফলে প্রথম দিনেই দপ্তরে উল্লেখযোগ্য ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় নির্দিষ্ট যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা এবং মহিলাদের স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার আশায় জেলার বিভিন্ন এলাকার মহিলাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ এবং কৌতূহল দেখা যাচ্ছে।
এদিকে ভিড় সামাল দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আবেদনকারীদের সুবিধার্থে দপ্তরে কর্মী মোতায়েনের পাশাপাশি আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পকে ঘিরে আগামী কয়েকদিনেও আবেদনকারীদের ভিড় আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে এই প্রকল্প বর্তমানে কোচবিহার জেলার সাধারণ মানুষের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।

