আলিপুরদুয়ার, ১৩ জুন:
কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থাকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে কৃষি দফতর। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি ব্লকে আয়োজন করা হল ‘প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা’। রাজ্যজুড়ে চলা বিশেষ সচেতনতামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই কর্মশালায় কৃষকদের প্রাকৃতিক ও জৈব চাষের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।
কর্মশালায় উপস্থিত কৃষকদের জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে এবং পরিবেশের ওপরও তার বিরূপ প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি উৎপাদিত ফসলের গুণগত মানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং জৈব পদ্ধতির মাধ্যমে কৃষিকাজ পরিচালনা করলে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করা সম্ভব হবে, একই সঙ্গে উৎপাদন খরচও অনেকাংশে কমানো যাবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞ ও আধিকারিকরা কর্মশালায় কৃষকদের সামনে প্রাকৃতিক কৃষির বিভিন্ন পদ্ধতি তুলে ধরেন। গোবর, গো-মূত্র, জৈব সার, ভার্মি কম্পোস্ট এবং স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করে কীভাবে কৃষিকাজ করা যায়, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়াও রাসায়নিক নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হয়।
এদিনের কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৃষি আধিকারিক মানিক দাস বলেন, প্রাকৃতিক কৃষি শুধু পরিবেশ রক্ষায় নয়, কৃষকদের অর্থনৈতিক দিক থেকেও লাভবান করতে পারে। তিনি জানান, কৃষকদের মধ্যে এই পদ্ধতি সম্পর্কে আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে এবং আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যক কৃষককে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মানিক দাস আরও বলেন, “প্রাকৃতিক কৃষিকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে আগামী দিনে গ্রামভিত্তিক প্রচার অভিযান চালানো হবে। বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট সচেতনতামূলক সভা, প্রশিক্ষণ শিবির এবং প্রদর্শনী কর্মসূচির আয়োজন করা হবে, যাতে কৃষকরা সরাসরি এই পদ্ধতির সুবিধা সম্পর্কে জানতে পারেন এবং বাস্তবে তা প্রয়োগ করতে উৎসাহিত হন।”
কৃষি দফতরের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার কৃষকরা। তাঁদের মতে, বর্তমান সময়ে কৃষি উৎপাদনের খরচ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে কম খরচে এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে চাষাবাদ করার বিকল্প পদ্ধতি সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়ে তাঁরা উপকৃত হয়েছেন।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক কৃষির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। তাই কৃষকদের মধ্যে এই ধরনের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ভবিষ্যতে কৃষিক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

